—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
যে সংস্থায় চাকরি করেন, সেই কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সমাজমাধ্যমে সরব হলে কিংবা প্রকাশ্যে কোম্পানির সমালোচনা করলে চাকরি যাওয়া কি যুক্তিযুক্ত? এমনই প্রশ্ন উঠল দিল্লি হাই কোর্টে একটি মামলায়। পর্যবেক্ষণ এবং নির্দেশে দুই পক্ষেরই কিছু ‘ভুল’ তুলে ধরল আদালত।
মঙ্গলবার মদনজিৎ কুমার নামে এক ব্যক্তির দায়ের করা মামলার শুনানি হয় বিচারপতি সঞ্জীব নারুলার একক বেঞ্চে। মদনজিৎ জানান, তিনি সেন্ট্রাল ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (সিইএল)-এ চাকরি করতেন। ২০১৭-’১৮ সালে কর্তৃপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেন। অপসারণের কারণ, তিনি টুইটারে (এখন এক্স) কিছু কথা লিখেছিলেন। যা কর্তৃপক্ষের মতে, জনসমক্ষে তাঁদের ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা হয়েছে। যা শুনে হাই কোর্ট জানিয়েছে, নিয়োগকর্তা কিংবা সংস্থার বিরুদ্ধে সমাজমাধ্যমে অভিযোগ জানানোর জন্য এক জন সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু ওই কর্মচারীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা ন্যায়সঙ্গত নয়। এই সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, সরকারি বা বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত কেউ সেই সংস্থার বিরুদ্ধে যদি প্রকাশ্যে (সমাজমাধ্যমে) এমন কিছু লেখেন বা বলেন যাতে কর্তৃপক্ষের ভাবমূর্তির উপর প্রভাব পড়ে, তখন সেই কর্মীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা যেতে পারে। কিন্তু চাকরি কেড়ে নেওয়া যুক্তিযুক্ত নয়। মদনজিতের মামলায় বিচারপতি বলেন, ‘‘মামলাকারী টুইট এবং রিটুইটের মাধ্যমে সংস্থার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছেন। তিনি সংস্থার অভ্যন্তরীণ কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত। সংশ্লিষ্ট সংস্থার একজন প্রতিনিধি। তিনি বাহ্যিক ভাবে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে। এ হেন আচরণ বিবেচনাধীন।’’
মামলাকারী জানান, তিনি সিইএল-এ সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসাবে যোগদান করেছিলেন। ২০১১ সালের জানুয়ারিতে পদোন্নতি হয়। তখন তিনি ছিলেন সিনিয়র ম্যানেজার (জনসংযোগ)। কিন্তু ২০১২, ২০১৬ এবং ২০১৭ সালে বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হয়েছিলেন। যা তাঁর কাছে সমীচীন মনে হয়নি। তার পর তিনি সমাজমাধ্যমে সরব হন। এবং তার পরেই শাস্তির খাঁড়া নামে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের জুলাই মাসে সংশ্লিষ্ট সংস্থার চেয়ারম্যান তথা ম্যানেজিং ডিরেক্টর ওই কর্মীকে শো কজ় ররেন। তাঁর বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগ করা হয়। ২০১৮ সালের অক্টোবরে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পর চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। মদনজিৎ ওই বছরই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু তখন তাঁর আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়।
২০১৮ সালের নভেম্বরে আবার আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। তখন তাঁর শাস্তি হিসাবে ‘চাকরি থেকে বরখাস্ত’ করার বদলে ‘চাকরি থেকে অপসারণ’— এই মন্তব্য লিখতে বলা হয়। এখন হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, কর্মচারী সংস্থার ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করলে এমন শাস্তি পেতে পারেন না। আবার তাঁর সমালোচনায় কর্তৃপক্ষও তাঁদের ক্ষমতা হারান না অযোগ্য হিসাবে চিহ্নিত হন না। শেষমেশ ওই সংস্থাকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।