হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় জবুথবু দিল্লি। ছবি: পিটিআই।
শৈত্যপ্রবাহ জারি দিল্লিতে। গত দু’দিন ধরেই ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে ঘোরাফোরা করছিল রাজধানীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। বৃহস্পতিবার পারদ ৩ ডিগ্রির নীচে নেমে গেল। মৌসম ভবন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর সফদরজঙে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফলে এটিই এখনও পর্যন্ত মরসুমের শীতলতম দিন। যদিও দু’দিন আগেই আয়ানগরে তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রির নীচে নেমে গিয়েছিল। তখনও সফদরজঙে ৩ ডিগ্রির আশপাশেই তাপমাত্রা ঘোরাফেরা করছিল। এই নিয়ে গত তিন বছরের মধ্যে দ্বিতীয় বার ২ ডিগ্রির ঘরে পৌঁছোল রাজধানীর তাপমাত্রা।
মৌসম ভবন জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ১৮ জানুয়ারি মরসুমের শীতলতম দিন হিসাবে রেকর্ড করা হয়েছিল। ওই দিন রাজধানীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঠান্ডার কামড় তো আছেই, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়েছে কুয়াশার দাপটও। ভোরের দিকে ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকছে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায়। ফলে সড়ক, ট্রেন এবং বিমান পরিষেবাও মাঝেমধ্যে ব্যাহত হচ্ছে। মৌসম ভবন জানিয়েছে, আগামী ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত কুয়াশার দাপট চলবে। বৃহস্পতিবার পালম বিমানবন্দরে দৃশ্যমানতা ৫০ মিটারের নীচে নেমে যায়।
দিল্লির পালমে বৃহস্পতিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আয়ানগরে ২.৭। লোঢী রোডে ৩.৪। অন্য দিকে, এনসিআরেও তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রির ঘরে ঘোরাফেরা করছে। তবে হরিয়ানার বেশির ভাগ জায়গায় তাপমাত্রা হিমাঙ্কের কাছাকাছি পৌঁছেছে। বুধবার সকালে গুরুগ্রামের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে এই পরিস্থিতি এখনও বেশ কয়েক দিন চলবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। হিসারে বুধবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা গত দু’বছরের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। রাজ্যের আট জেলায় তাপমাত্রা ৬-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমেছে। ১৩টি জেলায় ঘন কুয়াশার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
হিমাচল প্রদেশ, পঞ্জাব, হরিয়ানা, চণ্ডীগড়, দিল্লি, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, সিকিম, গুজরাত, ওড়িশা, ছত্তীসগঢ় এবং ঝাড়খণ্ডে শৈত্যপ্রবাহ এবং ঘন কুয়াশার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। হিমাচলের কোনও জায়গায় তুষারপাত এবং কোনও কোনও জায়গায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।