Salary Scale

বেতন কমপক্ষে ৬৯ হাজার হোক, দাবি কর্মীদের

বেতন কমিশন ঘোষণার পনেরো মাস ও তার কমিশন গঠনের ছ’মাস পরে, মঙ্গলবার অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের অধীন অষ্টম বেতন কমিশনের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের দিল্লিতে প্রথম বার বৈঠক ছিল।

প্রেমাংশু চৌধুরী
শেষ আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৫৯

—প্রতীকী চিত্র।

কেন্দ্রীয় সরকারের অষ্টম বেতন কমিশনে ন্যূনতম বেতন ৬৯ হাজার টাকা করার দাবি জানালেন কর্মচারীরা। তাঁরা মূল বেতন ও পেনশন ৩.৮৩ গুণ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। পেনশন ব্যবস্থায় এনপিএস তুলে দিয়ে পুরনো পেনশন প্রকল্প ফিরিয়ে আনারও দাবি উঠেছে। কর্মীদের দাবি, সামরিক বাহিনীরমতো সাধারণ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্যও ‘এক পদ, এক পেনশন’ চালু করার সুপারিশ করুক বেতন কমিশন।

বেতন কমিশন ঘোষণার পনেরো মাস ও তার কমিশন গঠনের ছ’মাস পরে, মঙ্গলবার অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের অধীন অষ্টম বেতন কমিশনের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের দিল্লিতে প্রথম বার বৈঠক ছিল। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলির যৌথমঞ্চ এনসি-জেসিএম বৈঠকে জানিয়েছে, এখন কর্মীদের ন্যূনতম মূল বেতন ১৮ হাজার টাকা।বর্তমান জীবনযাত্রার খরচ অনুযায়ী মূল বেতন বাড়িয়ে ৬৯ হাজার টাকা করা উচিত। যা এখনকার বেতনের ৩.৮৩ গুণ। সব স্তরের কর্মীদের বেতন ও পেনশন ঠিক করার ক্ষেত্রেই এই ৩.৮৩-র ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ নির্ধারণের দাবি তুলেছে কর্মচারী সংগঠন।

এনসি-জেসিএম-এর সাধারণ সম্পাদক শিবগোপাল মিশ্র বলেন, ‘‘বাবা-মা, সন্তান নিয়ে পাঁচ জনের পরিবার ধরে রোজ গড়ে ৩,৪৯০ কিলো-ক্যালোরি খাবারের খরচ, অন্যান্য খরচ এবং প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রযুক্তিগত খরচ ধরেই ৬৯ হাজার টাকার ন্যূনতম বেতনের হিসাবে পৌঁছনো হয়েছে।’’

জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধির সঙ্গে যাতে বেতনও বাড়ে, কর্মীরা তার জন্য প্রতি বছর ৬ শতাংশ হারে ‘ইনক্রিমেন্ট’ বা বেতন বৃদ্ধির দাবিও জানিয়েছেন। প্রয়োজনে বেতন স্তর বা পে স্কেল মিশিয়ে দিয়ে তার সংখ্যা কমানোর প্রস্তাবও করেছেন তাঁরা।

২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে নরেন্দ্র মোদী সরকার অষ্টম বেতন কমিশনের ঘোষণা করেছিল। তার ন’মাস পরে গত অক্টোবরে মোদী সরকার বেতন কমিশনের চেয়ারপার্সন, সদস্যদের নাম, কাজের শর্তাবলি ঘোষণা করে। বেতন কমিশনকে ১৮ মাসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছিল। কমিশন আজ কর্মীদের মতামত জানানোর সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ মে করেছে। কর্মচারী সংগঠনগুলির কর্মীদের দাবি, দ্রুত বেতন কমিশনের রিপোর্ট পেশ করে ২০২৬-এর ১ জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর করা হোক।

রাজনৈতিক সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের মধ্যে উত্তরপ্রদেশের মানুষের হার সব থেকে বেশি। তাই আগামী বছর উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে অষ্টম বেতন কমিশন কার্যকর করতে পারে মোদী সরকার।

আরও পড়ুন