Elon Musk Phone Call

মোদী-ট্রাম্প ফোনালাপে ঢুকে পড়েছিলেন ইলন মাস্কও! পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা শুনেছেন, কথা বলেছেন কি?

গত মঙ্গলবার পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য ট্রাম্প ফোন করেছিলেন মোদীকে। সমাজমাধ্যমে সেই ফোনালাপের কথা জানান খোদ প্রধানমন্ত্রীই। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দাবি, ফোনে মাস্কও ছিলেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৬ ০৯:০১
(বাঁ দিকে) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনালাপে ঢুকে পড়েছিলেন আমেরিকার ধনকুবের তথা এক্স প্ল্যাটফর্মের মালিক ইলন মাস্কও! মার্কিন আধিকারিকদের উল্লেখ করে এই তথ্য জানিয়েছে সে দেশের সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইম্‌স। তবে কেন মাস্ক ওই ফোনালাপে উপস্থিত ছিলেন, কেনই বা তাঁকে অনুমতি দেওয়া হল, জানা যায়নি। আদৌ মাস্ক সেখানে কোনও কথা বলেছেন কি না, স্পষ্ট নয়।

Advertisement

গত মঙ্গলবার পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য ট্রাম্প ফোন করেছিলেন মোদীকে। সমাজমাধ্যমে সেই ফোনালাপের কথা জানান খোদ প্রধানমন্ত্রীই। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটাই তাঁদের প্রথম কথোপকথন। মোদী জানান, পশ্চিম এশিয়া নিয়ে ফোনে তিনি এবং ট্রাম্প পরস্পর মত বিনিময় করেছেন। ট্রাম্পকে তিনি জানিয়েছেন, ভারত উত্তেজনার প্রশমন চায় এবং অবিলম্বে শান্তি স্থাপনকে সমর্থন করে। হরমুজ় প্রণালী নিয়েও তাঁদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়। ওই জলপথকে নিরাপদ রাখা, সকলের ব্যবহারযোগ্য করে তোলার প্রয়োজনীয়তা মেনে নিয়েছেন দুই রাষ্ট্রনেতাই। শান্তি এবং স্থিতিশীলতার পক্ষে তাঁরা একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন, জানান মোদী।

হোয়াইট হাউস বা নয়াদিল্লি, কোনও তরফেই ফোনে মাস্কের উপস্থিতি সম্বন্ধে উচ্চবাচ্য করা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উচ্চপদস্থ দু’জন মার্কিন আধিকারিক নিউ ইয়র্ক টাইম্‌সকে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে মাস্কের সম্পর্কের তিক্ততা কিছুটা কমে থাকতে পারে। সেই কারণেই মোদীর সঙ্গে ফোনালাপে তিনি ঢুকতে পেরেছিলেন। তবে সেখানে মাস্ক নিজে কোনও মন্তব্য করেছেন কি না, জানা যায়নি।

পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশ থেকে মাস্কের সংস্থা বিনিয়োগ পায়। সৌদি আরব এবং কাতার তার মধ্যে অন্যতম। তা ছাড়া, ভারতের বাজারেও দীর্ঘ দিন ধরেই ব্যবসা বাড়াতে চাইছেন মাস্ক। তাঁর ব্যক্তিগত সংস্থা স্পেসএক্স চলতি বছরের শেষ দিকেই ভারতের বাজারে পা রাখতে পারে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ সব দিক থেকেই মাস্কের জন্য ক্ষতিকর। এই পরিস্থিতি বেশি দিন চললে তিনি বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। তবে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা-ইজ়রায়েলের অভিযান নিয়ে মাস্ক প্রথম থেকে খুব একটা মুখ খোলেননি। তাই তাঁর অবস্থান বোঝা যাচ্ছে না। মোদী-ট্রাম্প ফোনালাপে তাঁর উপস্থিতির বিষয়টি জানতে চেয়ে একাধিক বার মাস্কের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলি। কিন্তু তিনি উত্তর দেননি। হোয়াইট হাউসের তরফেও কিছু বলা হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই রাষ্ট্রনেতার ফোনালাপে তৃতীয় কোনও ব্যক্তির অনুপ্রবেশ অত্যন্ত বিরল ঘটনা। হোয়াইট হাউস সাধারণত এমন কোনও অনুমতি দেয় না। কারণ, এই ধরনের ফোনালাপে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় আলোচিত হয়, যা সকলের জানার কথা নয়। এ ক্ষেত্রে মাস্কের উপস্থিতির কী প্রয়োজন ছিল, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন