শুক্রবার বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নিয়ে বৈঠকে সভাপতিত্ব করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছবি: পিটিআই।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার সর্বদল বৈঠক করেছিল কেন্দ্র। কিন্তু তাতে হাজির ছিলেন না তিনি। শুক্রবার অবশ্য বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নিয়ে বৈঠকে সভাপতিত্ব করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার রাতে ‘ভিডিয়ো কনফারেন্সিং’ মাধ্যমে প্রায় দু’ঘণ্টা বৈঠক করেন তিনি। ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরল, অসম, পুদুচেরি বাদে সব মুখ্যমন্ত্রীরা তাতে যোগ দিয়েছিলেন।
সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের উপর আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের হামলার জেরে সৃষ্ট যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি এবং তার জেরে জ্বালানি তেল, গ্যাসের সঙ্কট মোকাবিলায় রাজ্যগুলি কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীদের পর্যালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আলোচনা হয়েছে ‘পরবর্তী করণীয়’ সম্পর্কে। আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি চালু হওয়ার কারণে পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ ভোটমুখী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা বৈঠকে অংশ নিতে না পারায় মুখ্যসচিবদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে এই বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহও উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদী শুক্রবার জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত থেকে উদ্ভূত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ক্রমাগত পরিবর্তন হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শিল্প ও সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করা এবং নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষা করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকার শীর্ষে রয়েছে।’’ জ্বালানি সঙ্কটের জেরে দেশে আবার করোনা পরিস্থিতির মতো ‘লকডাউন’ হতে পারে বলে যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তা সরাসরি খারিজ করে দেন তিনি। তবে কোভিড অতিমারির মতোই ঐক্যবদ্ধ ভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলার উপর জোর দেন তিনি। পাশাপাশি গুরুত্ব দিয়েছেন সময়মতো তথ্য ভাগাভাগি এবং যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের উপর। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘পরিস্থিতি ক্রমাগত নজরদারি এবং অভিযোজনযোগ্য কৌশলের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করছে। কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।’’ মুখ্যমন্ত্রীদের সরবরাহ শৃঙ্খলের মসৃণ কার্যক্রম নিশ্চিত করতে এবং মজুতদারি ও মুনাফাখোরির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে অনুরোধও করেন তিনি। মোদী আরও জানান, ৩ মার্চ থেকে একটি আন্তঃমন্ত্রক গোষ্ঠী কার্যকর রয়েছে, যা প্রতিদিন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।