প্রতীকী ছবি।
নিটের প্রশ্ন তৈরিতে যে প্যানেল গঠন করা হয়েছিল, সেই প্যানেলে থাকা সমস্ত আধিকারিকই এখন সিবিআইয়ের সন্দেহের তালিকায়। হিন্দুস্তান টাইমস-কে সিবিআইয়ের এক সূত্র জানিয়েছে, প্রশ্ন তৈরি করার জন্য যে কমিটি গঠন করা হয়েছিল, সেই কমিটিতে কারা কারা ছিলেন, তাঁদের ভূমিকা কী ছিল, এ বার সব কিছু খতিয়ে দেখা হবে। সন্দেহ করা হচ্ছে, ওই প্যানেলের অনেকেই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। দুই শিক্ষকের গ্রেফতারির পর গোটা প্যানেলকেই এ বার তদন্তের আওতায় নিয়ে আসা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ওই সূত্র আরও জানিয়েছে যে, নিটের প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় আগামী দিনে গ্রেফতারির সংখ্যা আরও বাড়বে। প্রসঙ্গত, শনিবার মহারাষ্ট্রের পুণের আরও এক শিক্ষক মনীষা গুরুনাথ মান্ধারেকে গ্রেফতার করে সিবিআই। মনীষা প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ডের অন্যতম ‘মাথা’ বলে দাবি তদন্তকারীদের। বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করা হয়েছিল পিভি কুলকার্নি নামে আরও এক শিক্ষককে। ঘটনাচক্রে, এই দু’জনই ছিলেন নিটের প্রশ্ন তৈরির জন্য গঠিত কমিটিতে।
তদন্তকারীরা আগেই ইঙ্গিত পেয়েছিলেন যে, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-র অন্দরেরই কেউ না কেউ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তদন্ত এগোতেই কুলকার্নি এবং মান্ধারের হদিস পায় সিবিআই। আর এই দু’জন গ্রেফতার হওয়ার পর এনটিএ-র গোটা কমিটি এখন তদন্তকারীদের আতশকাচের তলায়। শুধু তা-ই নয়, নিট পরিচালন সংস্থার আরও অনেক আধিকারিক এই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে পারেন বলেও তদন্তকারীদের সন্দেহ। সিবিআইয়ের ওই সূত্র হিন্দুস্থান টাইমস-কে জানিয়েছেন, এই প্রথম এনটিএ-র অন্দরেই প্রশ্ন ফাঁসের সূত্র মিলল। ওই সূত্র আরও জানিয়েছে, প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার পরই সেগুলির পিডিএফ বানিয়ে বিভিন্ন মেসেজিং গ্রুপে চালান করে দেওয়া হয়েছিল। সেই সংখ্যাটা কয়েক হাজার হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কোন কোন গ্রুপ থেকে ওই প্রশ্ন চালান করা হয়েছে, কাদের হাতে সেই প্রশ্ন পৌঁছেছিল, সব খুঁজে বার করা হবে। তবে কারা প্রশ্ন ফাঁস করেছিলেন, তাঁদের সহযোগিতাই বা কারা করেছিলেন, আগে তাঁদের খুঁজে বার করার কাজ চলছে।
সিবিআই সূত্রে খবর, মান্ধারে বিশেষ কোচিংয়ের আয়োজন করেছিলেন বাছাই করা কিছু নিট পড়ুয়াকে নিয়ে। অভিযোগ, তিনি ওই পড়ুয়াদের উদ্ভিদবিদ্যা এবং প্রাণীবিদ্যার প্রশ্ন মুখে মুখে বলে দিয়েছিলেন। ঘটনাচক্রে, দেখা যায়, ওই দুই বিষয়ের বেশির ভাগ প্রশ্নের সঙ্গে মিল রয়েছে নিটের প্রশ্নের। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, মান্ধারেকে নিট পড়ুয়া জোগাড় করে দিয়েছিলেন বিউটিশিয়ান মনীষা ওয়াঘামারে। তদন্তকারী সূত্রের খবর, এনটিএ থেকে দু’টি সেটের প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হয়েছিল। একটি হাতে লেখা, অন্যটি ছাপানো। অভিযোগ, কুলকার্নি রসায়নের প্রশ্ন ফাঁস করেছিলেন। আর মান্ধারে জীববিদ্যার।