Petrol-Diesel

জ্বালানি তেলে অন্তঃশুল্ক কমিয়ে দিল কেন্দ্রীয় সরকার, হ্রাস পেল প্রতি লিটারে ১০ টাকা! দাম কি কমতে চলেছে পেট্রল, ডিজ়েলের?

মোদী সরকার বার বার আশ্বস্ত করছে, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল বা গ্যাস মজুত রয়েছে। ভারতে কত দিনের তেল এবং গ্যাস মজুত রয়েছে, তার পরিসংখ্যানও দিয়েছে কেন্দ্র।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৭ মার্চ ২০২৬ ১০:০০
Excise duty on Petrol, Diesel cut to 10 rupees in per litre

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

পেট্রল ও ডিজ়েলের উপর লিটার প্রতি ১০ টাকা করে অন্তঃশুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। এই সিদ্ধান্তের পর পেট্রলের উপর চাপানো শুল্ক ১৩ টাকা থেকে কমে দাঁড়াল ৩ টাকা। আর ডিজ়েলের ক্ষেত্রে শূন্যে নেমে এল।

Advertisement

প্রশ্ন উঠছে তবে কি পেট্রল-ডিজ়েলের দাম কমতে পারে? তবে বিভিন্ন সূত্রে খবর, অন্তঃশুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তে সরাসরি সাধারণ মানুষের লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা কমই। দেশের তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলি (ওএমসি)-র ক্ষতি লাঘব করতে এই সিদ্ধান্ত। এর ফলে সরকার রাজস্বও হারাবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ভারতীয় সংস্থাগুলি যে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, তার উপর সরকার অন্তঃশুল্ক নেয়। গত বছরই সেই শুল্ক বাড়িয়েছিল মোদী সরকার। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। তবে ভারতের বাজারে এখনও পর্যন্ত সাধারণ পেট্রল, ডিজ়েলের দাম বাড়েনি। এর ফলে ভারতীয় সংস্থাগুলিকে অনেকটাই ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সেই ক্ষতির ধাক্কা সামলে নিতেই অন্তঃশুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

অনেকের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সাযুজ্য রক্ষা করতেই পেট্রল ও ডিজ়েলের উপর অন্তঃশুল্ক কমাল কেন্দ্র। বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় ভারতেও তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের পর আপাতত ভারতে পেট্রল, ডিজ়েলের দাম বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন অনেকে।

কেন অন্তঃশুল্ক কমানোর পথে হাঁটল সরকার? কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী জানিয়েছেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সরকারে কাছে দু’টি পথ খোলা ছিল। এক, অন্য দেশের মতো ভারতে পেট্রল-ডিজ়েলের দাম বাড়িয়ে দেওয়া। আর দুই, আর্থি ক্ষতি মেনে নিয়ে দেশবাসীকে মূল্যবৃদ্ধির থেকে রক্ষা করা। মোদী সরকার দ্বিতীয় পথটা বেছে নিয়ে বলে জানান পুুরী।

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের উপর আমেরিকা-ইজ়রায়েলের হামলা এবং তেহরানের প্রত্যাঘাতের আগে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানির অর্ধেকেরও বেশি সৌদি আরব ও ইউএই-র মতো পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি থেকে আসত। তবে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের হামলার পর ইরান হরমুজ় প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ রেখেছিল। হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, কোনও পণ্যবাহী জাহাজকে প্রণালী পার করতে দেওয়া হবে না। কেউ যদি এগোনোর চেষ্টা করে, তবে পরিণতি ‘সাংঘাতিক’ হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তেহরান। কয়েকটি জাহাজে হামলাও হয়। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে। কয়েকটি দেশের জাহাজ পারাপারের ‘অনুমতি’ দিয়েছে ইরান। সেই তালিকায় রয়েছে ভারতের কয়েকটি জাহাজও।

তবে উৎকণ্ঠা কাটছে না। এরই মধ্যে মোদী সরকার বার বার আশ্বস্ত করছে, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল বা গ্যাস মজুত রয়েছে। ভারতে কত দিনের তেল এবং গ্যাস মজুত রয়েছে, তার পরিসংখ্যানও দিয়েছে কেন্দ্র। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, দেশে যা অশোধিত তেল মজুত রয়েছে, তা দিয়ে ৬০ দিনের চাহিদা মেটানো যাবে। এই সময়ের মধ্যে বিশ্বে বড় কোনও সঙ্কট হলেও তেলের জোগান ব্যাহত হবে না বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে। এ-ও জানানো হয়েছে, আমেরিকা, রাশিয়ার মতো দেশ থেকে গ্যাসবাহী জাহাজ খুব শীঘ্রই ভারতের বন্দরগুলিতে ঢুকবে। ইতিমধ্যেই ৮০০ হাজার মেট্রিক টন গ্যাস আমদানি সুনিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। সে ক্ষেত্রে এক মাস পরেও গ্যাসের সঙ্কট হবে না।

Advertisement
আরও পড়ুন