General MM Narvane

‘সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি সরকারের আস্থাই প্রমাণিত রাজনাথের মন্তব্যে’, বিতর্কিত বই নিয়ে মন্তব্য প্রাক্তন সেনাপ্রধানের

প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নরবণে তাঁর অপ্রকাশিত স্মৃতিকথন ‘ফোর স্টার্‌স অফ ডেস্টিনি’-র সেই বিতর্কিত অংশ প্রসঙ্গে মুখ খুললেন প্রায় আড়াই মাস পরে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:২৩
Former Army Chief General MM Naravane issues statement on his controversial book

(বাঁদিকে) রাজনাথ সিংহ এবং মনোজ নরবণে (ডানদিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

তাঁর ‘অপ্রকাশিত বই’ ঘিরে আড়াই মাস আগে তুমুল রাজনৈতিক বিতর্কের সাক্ষী হয়েছিল দেশ। এ বার প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নরবণে তাঁর স্মৃতিকথন ‘ফোর স্টার্‌স অফ ডেস্টিনি’-র সেই বিতর্কিত অংশ প্রসঙ্গে মুখ খুললেন। ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তাঁর মন্তব্য, ‘‘প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংহ আমাকে যা বলেছিলেন, তাতে প্রমাণিত হয় সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি সরকারের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।’’

Advertisement

গত ফেব্রুয়ারি মাসে সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্বে প্রাক্তন সেনাপ্রধান নরবণের ‘অপ্রকাশিত’ বই থেকে চিন প্রসঙ্গ উত্থাপন করার চেষ্টা করেছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখে ট্যাঙ্ক নিয়ে কৈলাস রেঞ্জের দিকে এগোচ্ছিল চিনের সেনা। সেনাপ্রধান তা জানানোর পরেও নাকি প্রধানমন্ত্রী কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। নরবণের অপ্রকাশিত বই সম্পর্কে একটি ম্যাগাজ়িনে প্রকাশিত নিবন্ধ থেকে রাহুল পড়া শুরু করলে স্পিকার ওম বিড়লা লোকসভা কার্যবিধির ৩৪৯ (১) ধারা স্মরণ করিয়ে তাঁকে পড়া থেকে বিরত হতে বলেছিলেন, যা নিয়ে লোকসভায় সরকার ও বিরোধীপক্ষের তুমুল তরজা হয়েছিল।

২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দেশের সেনাপ্রধান ছিলেন নরবণে। তাঁর ‘অপ্রকাশিত’ বইয়ের অংশ চলতি বছরের গোড়ায় প্রকাশিত হয়েছিল ম্যাগাজ়িনে। ৪৪৮ পাতার ওই বইয়ে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে ডোকলাম সীমান্তে ভারত এবং চিনের সেনা যখন মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে, তখন বেজিঙের সাঁজোয়া গাড়ি ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছিল। এলএসি-তে চিনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ২০২০ সালের ৩১ অগস্ট প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের বর্ণনাও দিয়েছেন নরবণে। অপ্রকাশিত স্মৃতিকথায় লিখেছেন, ‘‘উনি (রাজনাথ সিংহ) বলেন যে, তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং এটি সম্পূর্ণ রূপে একটি সামরিক সিদ্ধান্ত। আমাকে বলা হয় যা উপযুক্ত মনে হয় তা করতে। ... এই সম্পূর্ণ স্বাধীনতা পাওয়ার পর এখন সম্পূর্ণ দায়িত্ব আমার উপর। আমি একটি গভীর শ্বাস নিলাম এবং কয়েক মিনিট চুপ করে বসে রইলাম।’’

ছ’বছর আগে রাজনাথের ওই মন্তব্যের পরে গভীর শ্বাস নিয়ে চুপ করে বসে থাকলেও চলতি সপ্তাহে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ওই মন্তব্যকে ‘সেনার প্রতি মোদী সরকারের আস্থা’ হিসাবেই দেখছেন জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) নরবণে।

Advertisement
আরও পড়ুন