— প্রতীকী চিত্র।
মহিলাদের জরায়ুমুখ ক্যানসার রুখতে আরও সক্রিয় হল কেন্দ্রীয় সরকার। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই গোটা দেশে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকা প্রকল্প চালু করা হবে। ১৪ বছরের কিশোরীদের এই টিকা দেওয়া হবে।
সূত্র বলছে, এই প্রকল্পে এইচপিভি টিকা গার্ডাসিলের একটি টিকা দেওয়া হবে। এইচপিভি টাইপ ১৬ এবং ১৮ রুখতে সক্রিয় ভূমিকা নেয় এই টিকা। ওই ভাইরাসের কারণে সার্ভিক্স বা জরায়ুমুখ ক্যানসার হতে পারে। এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বিশ্ব এবং ভারতের বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন যে, নির্দিষ্ট বয়সে মহিলাদের টিকার একটি ডোজ দেওয়া হলে সুরক্ষা মিলবে। ১৪ বছর বয়সে মেয়েদের এই টিকা দিলে সুরক্ষা মিলবে সর্বাপেক্ষা। কারণ, তখনও ভাইরাসের সংস্পর্শে যায় না মেয়েরা।
খোলা বাজারে গার্ডাসিল-৪-এর একটি ডোজের দাম ৩,৯২৭ টাকা। ১৫ বছরের কম বয়সী মেয়েদের মোট দু’টি ডোজ দিতে হয়। ১৫ বছরের বেশি বয়সি মেয়েদের টিকার তিনটি করে ডোজ দিতে হয়। এমএসডি ইন্ডিয়া এই টিকা তৈরি করে। তবে সরকারি প্রকল্পের আওতায় এই টিকা বিনামূল্যে পাবে ১৪ বছরের কিশোরীরা। টিকা নিলে ভবিষ্যতে জরায়ুমুখ ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমবে বলে মত।
২০০৬ সালে এই টিকা চালু হয়। তার পর থেকে এখন পর্যন্ত গোটা পৃথিবীতে ৫০ কোটি ডোজ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৬০টি দেশে এই টিকাদান জাতীয় প্রকল্প হিসাবে স্বীকৃত হয়েছে। এ বার তা ভারতেও চালু হবে। ৯০টি দেশে এইচপিভি টিকার একটি করে ডোজ দেওয়া হয়।
পরিসংখ্যান বলছে, ভারতে মহিলাদের যে ধরনের ক্যানসার সবচেয়ে বেশি হয়, সেই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সার্ভিক্স ক্যানসার। প্রতি বছর প্রায় ৮০ হাজার মহিলা নতুন করে এতে আক্রান্ত হন। এই ক্যানসারে প্রাণ যায় প্রতি বছর প্রায় ৪২ হাজার মহিলার।