আইপ্যাকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চান্দেল। —ফাইল চিত্র।
কয়লা পাচার মামলায় বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে ধৃত আইপ্যাক কর্তা বিনেশ চান্দেলকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠাল দিল্লির বিশেষ আদালত। ভোটকুশলী সংস্থা ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটির (আইপ্যাক) অন্যতম কর্তা বিনেশকে গত ১৩ এপ্রিল গ্রেফতার করেছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।
১৪ এপ্রিল দিল্লির পটিয়ালা হাউস কোর্টের অতিরিক্ত দায়রা বিচারক (এএসজে) শেফালী বরনালা টন্ডন তাঁকে ১০ দিনের ইডি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে বুধবার আবার বিনেশকে আদালতে তোলা হয়। আদালতে ইডি জানিয়েছে, আইপ্যাকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ সংশ্লিষ্ট সংস্থার ৩৩ শতাংশের অংশীদার। অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের (পিএমএলএ) অধীনে একটি মামলায় তিনি তদন্তাধীন রয়েছেন। বিচারক তাঁর পর্যবেক্ষণে জানান, পিএমএলএ-র ১৯(১), ১৯(২), এবং ১৯(৩) ধারায় অভিযুক্ত বিনেশ। এই মামলায় তদন্তের সুরক্ষার স্বার্থে তাঁকে বিচারবিভাগীয় (জেল) হেফাজতে পাঠানো হচ্ছে।
আইপ্যাকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বিনেশের তরফে বুধবার নতুন করে একটি জামিনের আবেদন জানানো হয়েছে দিল্লির পটিয়ালা হাউস কোর্টে। বিচারক ধীরেন্দ্র রানার এজলাসে আগামী ২৯ এপ্রিল জামিনের আবেদনের শুনানি হবে। প্রসঙ্গত, দিল্লি পুলিশের দায়ের করা একটি এফআইআর থেকে এই মামলার সূত্রপাত। বিনেশের গ্রেফতারি নিয়ে ইডি-র দাবি, ওই সংস্থায় একাধিক আর্থিক অনিয়মের ঘটনা উদ্ঘাটিত হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে হিসাবভুক্ত এবং হিসাববহির্ভূত উভয় প্রকার তহবিল গ্রহণ, জামানতবিহীন ঋণ, ভুয়ো চালান প্রদান, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে তহবিল স্থানান্তর ইত্যাদি। তা ছাড়াও নগদ অর্থ স্থানান্তরের জন্য দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক হাওয়ালা চ্যানেল ব্যবহারের অভিযোগও করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি। ২ এপ্রিল ইডি দিল্লিতে চান্দেলের বাসভবন ছাড়াও বেঙ্গালুরুতে আই-প্যাকের আর এক সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ঋষি রাজ সিংহের এবং মুম্বইয়ে আম আদমি পার্টির (এএপি) প্রাক্তন যোগাযোগ দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজয় নায়ারের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই এই গ্রেফতারি।