ডিএমকে নেতা এমকে স্ট্যালিন। —ফাইল চিত্র।
পশ্চিমবঙ্গের মতোই রেকর্ড ভোটের নজির গড়ল তামিলনাড়ুও। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দক্ষিণ ভারতের ওই বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট পড়েছিল ৭৩.৮ শতাংশ। এ বার তা ১১ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে! নির্বাচন কমিশনের দেওয়া হিসাব বলছে, বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ভোটদানের হার ৮৫ শতাংশ। কোনও বড় অশান্তির ঘটনা ঘটেনি।
পশ্চিমবঙ্গের মতোই তামিলনাড়ুতেও বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) হয়েছিল। ভোটদানের হারবৃদ্ধি তার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন অনেকেই। পাঁচ বছরের ব্যবধানে আবার ত্রিমুখী লড়াই হচ্ছে তামিলনাড়ুর বিধানসভা ভোটে। তবে বদলে গিয়েছে তৃতীয় পক্ষ। ২০২১ সালের মতোই যুযুধান প্রধান দুই পক্ষ হল, ক্ষমতাসীন ডিএমকে-কংগ্রেস-বাম জোট এবং এডিএমকে-বিজেপি জোট। তবে দুই দ্রাবিড় দলের পাশাপাশি লড়াইয়ে রয়েছে আরও এক শক্তি— তামিল চলচ্চিত্রের সুপারস্টার থলপতি বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেটরি কাঝাগাম’ (টিভিকে)।
পাঁচ বছর আগের বিধানসভা ভোটে তৃতীয় শক্তি ছিল আর এক তামিল অভিনেতা কমল হাসনের ‘মক্কাল নিধি মইয়াম’ (এমএনএম)। সেই ভোটে ভরাডুবির পরে ডিএমকে শিবিরে নাম লিখিয়ে কমল আপাতত রাজ্যসভার সাংসদ। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সূচনা হয়েছিল বিজয়ের দলের। তবে সে বার লোকসভা ভোটে লড়েনি টিভিকে। জল্পনা ছিল, আসন্ন বিধানসভা ভোটে ডিএমকের সঙ্গে সমঝোতা করতে পারেন তিনি। কিন্তু একাই লড়ছে তাঁর দল। বিজয় নিজে লড়ছেন দু’টি আসনে— তিরুচিরাপল্লি পূর্ব এবং পেরাম্বুরে।
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তথা ডিএমকে নেতা এমকে স্ট্যালিন তাঁর পুরনো কেন্দ্র কোলাথুর থেকে প্রার্থী। ২০১১ সাল থেকে ওই আসনে জিতছেন তিনি। তাঁর পুত্র উদয়নিধির ভোটপরীক্ষা চিপক-তিরুভাল্লিকেনি আসনে। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে লড়ে জিতেছিলেন এই আসন থেকেই। প্রয়াত এডিএমকে নেত্রী জয়ললিতার ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও পন্নিরসেলভম এ বার ডিএমকের টিকিটে প্রার্থী হয়েছেন বড়িনায়াক্কানুর কেন্দ্রে। আর এক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা এডিএমকে প্রধান ইকে পলানিস্বামী লড়ছেন তাঁর পুরনো আসন এডাপড্ডি থেকেই। আগামী ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, অসম, পুদুচেরির সঙ্গে তামিলনাড়ুতেও ভোটগণনা হবে।