India-China Issue

মিথ্যা বলে সত্যকে বিন্দুমাত্র বদলানো যাবে না! ভারতীয় ভূখণ্ডের ‘কাল্পনিক নামকরণ’ নিয়ে চিনকে বিঁধল নয়াদিল্লি

গত ২৬ মার্চ চিনের শিনজিয়াং উইঘুর স্বশাসিত অঞ্চল ‘সেনলিং’ নামে একটি প্রদেশ গঠনের কথা ঘোষণা করে। এর আগে গত বছরও এই অঞ্চলে দু’টি প্রদেশ গঠনের ঘোষণা করেছিল বেজিং।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ০১:০৪
(বাঁ দিকে) চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

ভারতীয় ভূখণ্ডের ‘কাল্পনিক নাম’ দেওয়া নিয়ে ফের চিনের ভূমিকায় প্রশ্ন তুলল ভারত। সম্প্রতি আকসাই চিন অঞ্চলে একটি নতুন প্রশাসনিক প্রদেশ (কাউন্টি) তৈরি করেছে বেজিং। এরই মধ্যে রবিবার নয়াদিল্লি ফের নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল। জানিয়ে দিল, ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্যে থাকা এলাকার কাল্পনিক নামকরণের জন্য চিনের দুরভিসন্ধিমূলক চেষ্টাকে দ্ব্যর্থহীন ভাবে খারিজ করছে দিল্লি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক বিবৃতি প্রকাশ করে এই ভাষাতেই বিঁধেছে চিনকে।

Advertisement

বিবৃতিতে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, “অরুণাচল প্রদেশ-সহ এই অঞ্চলগুলি অতীতেও ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। এখনও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন দাবি করে চিন সেই সত্যকে বিন্দুমাত্র বদলাতে পারবে না।” একই সঙ্গে এ-ও জানানো হয়েছে, চিনের এই ধরনের কাজের ফলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে স্থিতিশীল এবং স্বাভাবিক করার চেষ্টা বিঘ্নিত হয়। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এমন কোনও কাজ না-করার জন্য চিনকে বার্তা দিয়েছে নয়াদিল্লি।

যদিও কোনও নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের কথা নয়াদিল্লির বিবৃতিতে উল্লেখ নেই। তবে পিটিআই সূত্রে জানানো হচ্ছে, সম্প্রতি বেজিং যে নতুন প্রদেশটি গঠন করেছে, তার প্রেক্ষিতেই দিল্লি এই প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। গত ২৬ মার্চ চিনের শিনজিয়াং উইঘুর স্বশাসিত অঞ্চল ‘সেনলিং’ নামে একটি প্রদেশ গঠনের কথা ঘোষণা করে। কৌশলগত ভাবে এই প্রদেশটি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি পাক অধিকৃত কাশ্মীর এবং আফগানিস্তানের কাছাকাছি অবস্থিত। পিটিআই জানাচ্ছে, কারাকোরাম পর্বতের কাছে এই ‘সেনলিং’ প্রদেশটি ভারত এবং চিনের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার পশ্চিম ভাগেরও বেশ কাছে অবস্থিত ওই অঞ্চলটি।

বস্তুত, সাম্প্রতিক সময়ে এই নিয়ে তৃতীয় বার কোনও প্রদেশ গঠন করে নয়াদিল্লির সমালোচনার মুখে পড়ল চিন। ঘটনাচক্রে, তিনটি প্রদেশই চিনের শিনজিয়াং উইঘুর স্বশাসিত অঞ্চলে। এর আগে গত বছরে ‘হিয়াং’ এবং ‘হেকাং’ নামে দু’টি প্রদেশ গঠন করা হয়েছিল ওই অঞ্চলে। তা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছিল নয়াদিল্লি। ওই সময়ে ভারত জানিয়েছিল, লাদাখের কিছু অংশও চিনের নতুন ঘোষিত প্রদেশগুলির মধ্যে দেখানো হয়েছে। তবে এই বারে নির্দিষ্ট ভাবে কোনও অঞ্চলের কথা নয়াদিল্লির তরফে উল্লেখ করা হয়নি।

অতীতে অরুণাচল প্রদেশ নিয়েও চিনের অবস্থানে আপত্তি জানিয়েছে ভারত। ২০১৭ সালে চিনের অসামরিক বিষয়ক মন্ত্রক অরুণাচল প্রদেশ (এই অঞ্চলকে চিন বলে ‘জাংনান’)-এর ছ’টি জায়গায় নিজস্ব নামকরণের তালিকা প্রকাশ করে। পরবর্তী সময়ে ২০২১ সালে ১৫টি এবং ২০২৩ সালে ১১টি স্থানের নামকরণের তালিকা প্রকাশ করে। চিনের দাবি, অরুণাচল দক্ষিণ তিব্বতের অংশ। চিনের এই দাবিও বার বার প্রত্যাখ্যান করে আসছে নয়াদিল্লি।

Advertisement
আরও পড়ুন