ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।
রেডিয়ো সাক্ষাৎকারে ভারত এবং চিনকে ‘নরককুণ্ড’ এবং ভারতীয়দের ‘ল্যাপটপধারী গুন্ডা’ বলায় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তীব্র আক্রমণ শানাল ইরানের উপদূতাবাস। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের ওই মন্তব্য নিয়ে বিরোধীদের, বিশেষত কংগ্রেসের প্রবল আক্রমণের মুখে গত কাল ট্রাম্পের নামোল্লেখ না করে বিদেশ মন্ত্রক ‘এগুলি কুরুচিপূর্ণ এবং এমন মন্তব্য করা উচিত নয়’ বলে বিবৃতি দিয়েছিল। কিন্তু সরাসরি ট্রাম্পের নাম করেই ইরানের মুম্বইয়ের উপদূতাবাস পরামর্শ দিয়েছে, ভারত কেমন, তা আগে দেখে যেন মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
মুম্বইয়ে ইরানের উপদূতাবাসের সমাজমাধ্যম হ্যান্ডল থেকে ট্রাম্পের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মহারাষ্ট্রের একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিয়ো পোস্ট করা হয়েছে। সেই ভিডিয়োয় মুম্বইয়ের নগরজীবন, মহারাষ্ট্রের গণেশ পুজো, সাতারা, খান্ডেশের প্রাকৃতির সৌন্দর্য-সহ নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। ১৭ সেকেন্ডের ভিডিয়োটি পোস্ট করে ইরানের উপদূতাবাস কটাক্ষের সুরে লিখেছে, ‘‘কারও উচিত ট্রাম্পের জন্য একটি একমুখী সাংস্কৃতিক ডিটক্স (শরীর থেকে ক্ষতিকারক পদার্থ বার করে দেওয়া)-এর ব্যবস্থা করা। এতে হয়তো তাঁর বাজে বকবক করা (বকওয়াস) কিছুটা কমবে! ভারত কেমন, তা কখনও এসে নিজের চোখে দেখুন। তার পরে কথা বলবেন।’’
বিতর্কের শুরু সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের একটি পোস্টকে ঘিরে। তাঁর প্রিয়পাত্র তথা রাজনৈতিক ভাষ্যকার এবং রেডিয়ো উপস্থাপক মাইকেল স্যাভেজ়ের একটি পডকাস্ট চিঠির আকারে ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ পোস্ট করেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। সেই পোস্টে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিষয়ে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের যুক্তিগুলির সমালোচনা করেন তিনি। পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘‘এখানে (আমেরিকায়) একটি শিশু জন্মালে সঙ্গে সঙ্গে নাগরিকত্ব পেয়ে যায়। তার পরে তারা চিন, ভারত বা পৃথিবীর অন্য কোনও ‘হেলহোল’ (নরককুণ্ড) থেকে পুরো পরিবারকে নিয়ে আসে।’’ একই সঙ্গে লেখা হয়েছে, ‘‘সব মাফিয়া পরিবার মিলে যা করেছে, ওরা তার চেয়েও বেশি ক্ষতি করেছে। ল্যাপটপ হাতে ওরা গুন্ডা। আমাদের সর্বস্ব লুটে নিয়েছে। আমাদের দেশেই আমাদের সঙ্গে দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষের মতো ব্যবহার করে।’’
এই পরিস্থিতিতে বিরোধীদের তীব্র আক্রমণের মুখে প্রথমে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘‘আমরা এমন কিছু রিপোর্টে দেখেছি। এ টুকুই আপাতত বলতে চাইছি।’’ পরে ট্রাম্পের নামোল্লেখ না করে রণধীর জওসওয়াল এক লিখিত বিবৃতিতে জানান, ‘না জেনে এই মন্তব্যগুলি করা হয়েছে। এগুলি কুরুচিপূর্ণ এবং এমন মন্তব্য করা উচিত নয়। ভারত-আমেরিকার কূটনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘ দিন ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং পরস্পরের স্বার্থরক্ষার উপর প্রতিষ্ঠিত। এর থেকে ভারত-আমেরিকার সম্পর্ক প্রতিফলিত হয় না’। বিদেশ মন্ত্রকের এমন প্রতিক্রিয়ার পরেই সরাসরি ট্রাম্পের নাম করে ইরানের তীব্র আক্রমণ কূটনৈতিক ভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।