Pahalgam Terror Aftermath

‘ন্যায়বিচার চাই’! পাকিস্তানি স্ত্রী বিতর্কে আধাসেনা বাহিনী থেকে বহিষ্কৃত জওয়ান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হস্তক্ষেপ চাইলেন

সিআরপিএফে কর্মরত ছিলেন মুনির আহমেদ। তাঁর স্ত্রী মিনাল খান পাকিস্তানি নাগরিক। বর্তমানে মেয়াদ-উত্তীর্ণ ভিসায় এ দেশে রয়েছেন। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিতর্ক শুরু হয়। শনিবার তাঁকে বাহিনী থেকে বহিষ্কার করে দেয় সিআরপিএফ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৪ মে ২০২৫ ১৭:৩৮
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে ন্যায়বিচারের আর্জি জানাচ্ছেন সিআরপিএফ থেকে বহিষ্কৃত জওয়ান মুনির আমহেদ।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে ন্যায়বিচারের আর্জি জানাচ্ছেন সিআরপিএফ থেকে বহিষ্কৃত জওয়ান মুনির আমহেদ। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

পাকিস্তানি মহিলাকে বিয়ে করার তথ্য গোপন করার অভিযোগে আধাসেনা বাহিনী থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে মুনির আহমেদকে। তাঁর স্ত্রী মিনাল খান পাকিস্তানের নাগরিক। বর্তমানে মেয়াদ-উত্তীর্ণ ভিসায় এ দেশে রয়েছেন। স্ত্রীকে অবৈধ ভাবে এ দেশে থেকে যেতে জেনেবুঝে সাহায্য করার অভিযোগও রয়েছে সিআরপিএফ থেকে বহিষ্কৃত জওয়ান মুনিরের বিরুদ্ধে। তবে মুনিরের দাবি, তিনি কোনও অন্যায় করেননি। বিয়ের কথা বাহিনীকে জানিয়েছেন বলেও দাবি বহিষ্কৃত জওয়ানের। মুনিরের বক্তব্য, তিনি ন্যায়বিচার চান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহেরও হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি।

Advertisement

মুনিরের পাকিস্তানি স্ত্রীর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরই সিআরপিএফ একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করে। শনিবার রাতে আধাসেনা বাহিনী জানিয়ে দেয়, অবিলম্বে মুনিরকে সিআরপিএফ থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে। মুনির জানান, বাহিনীর এই সিদ্ধান্তে তিনি স্তম্ভিত। তিনি বলেন, “একজন জওয়ান হিসাবে আমি প্রধানমন্ত্রী (নরেন্দ্র মোদী) এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (অমিত শাহ)-র কাছে বলতে চাই, আমাকে ন্যায়বিচার দিতেই হবে। আমার ২০২৪ সালে বিয়ে হয়েছে এবং ২০২২ সাল থেকে দফতরকে সে কথা বলে আসছি। এ বার বলুন, এখানে বেআইনি কী করেছি?” আধাসেনা বাহিনীর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সংবাদ সংস্থা এএনআইকে তিনি বলেন, “আমি জানিয়েছিলাম (দফতরকে)। আমার কাছে প্রমাণ আছে। যথাযথ মাধ্যম হয়েই জানানো হয়েছিল এবং নথিপত্রও দেওয়া হয়েছিল।”

সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের কাছে মুনির দাবি করেন, পাক তরুণী মিনাল খানকে বিয়ে করার জন্য সিআরপিএফের সদর দফতরে অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদন মঞ্জুরও করা হয়। কিন্তু সিআরপিএফ সদর দফতরের দাবি, মুনিরের আবেদনপত্র তারা পেয়েছিল। কিন্তু তাঁকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। তার মধ্যেই দফতরকে কোনও খবর না দিয়েই গোপনে বিয়ে করেন মুনির। শুধু তা-ই নয়, তাঁর স্ত্রী মিনাল ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও ভারতে থেকে গিয়েছেন। পহেলগাঁও কাণ্ডের পর যখন পাকিস্তানিদের ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেয় কেন্দ্র, সেই সূত্র ধরেই সিআরপিএফ জওয়ান মুনিরের স্ত্রীর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তার পরই তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করে সিআরপিএফ।

২০২৪ সালের মে মাস থেকে মুনিরের সঙ্গে অনলাইনে সম্পর্ক গড়ে ওঠে পাকিস্তানের সিয়ালকোটের বাসিন্দা মিনালের। অনলাইনেই তাঁদের বিয়ে (নিকাহ্‌) হয়। ভিসার জন্য দীর্ঘ দিন অপেক্ষার পরে শেষে স্বল্পমেয়াদি ভিসায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এ দেশে আসেন তিনি। চলতি বছরের ২২ মার্চ মাসে ওই স্বল্পমেয়াদি ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যায়। স্ত্রীকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি আটকাতে জম্মু-কাশ্মীর হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন মুনির। স্ত্রী মিনাল অটারী-ওয়াঘা সীমান্ত হয়ে পাকিস্তানে ফেরার আগে আদালত থেকে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ মেলে। আগামী ১৪ মে ওই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে আদালতে।

এ বার চাকরি থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তকেও চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবছেন মুনির। তিনি বলেন, ‘‘ভাবতে পারছি না, আমার বিরুদ্ধে এত বড় একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। চাকরি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হল!’’

Advertisement
আরও পড়ুন