Omar Abdullah

ওমরের বিরুদ্ধে সরব সাংসদ, অশান্তি এনসি-র অন্দরেই

কাশ্মীরে বিধানসভা নির্বাচনের পরে দলের তরফে এই ধরনের বৈঠক ছিল প্রথম। এবং দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং অভ্যন্তরীণ কাজকর্ম নিয়ে আলোচনার জন্যই বুধবার বৈঠক ডাকা হয়েছিল।

সাবির ইবন ইউসুফ
শেষ আপডেট: ২৬ মে ২০২৫ ০৬:৩৫
ওমর আবদুল্লা।

ওমর আবদুল্লা। —ফাইল চিত্র।

জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের জেরে দলের বর্ষীয়ান নেতা এবং লোকসভার সাংসদ আগা রুহুল্লা মেহেদি সম্প্রতি দলের ওয়ার্কিং কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান। এই নিয়ে ন্যাশনাল কনফারেন্সের (এনসি) ভিতরে বেশ উত্তেজনা ছড়িয়েছে। দলীয় মুখপাত্র ইমরান রানি দার অবশ্য দাবি করেছেন, রুহুল্লা বৈঠক ছেড়ে বেরোননি। কিন্তু দলের একাধিক সূত্র স্বীকার করছেন যে, কেন্দ্রের সঙ্গে ওমর সরকারের বর্তমান সম্পর্ক নিয়ে অস্বস্তির কথাই রুহুল্লা বলেছেন।

কাশ্মীরে বিধানসভা নির্বাচনের পরে দলের তরফে এই ধরনের বৈঠক ছিল প্রথম। এবং দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং অভ্যন্তরীণ কাজকর্ম নিয়ে আলোচনার জন্যই বুধবার বৈঠক ডাকা হয়েছিল। কিন্তু ওমর আবদুল্লার নেতৃত্ব এবং দলের গতিবিধি নিয়ে রুহুল্লা প্রকাশ্যে সমালোচনা করায় তা নাটকীয় মোড় নেয় বলে খবর।

ন্যাশনাল কনফারেন্স সূত্রে জানা গিয়েছে, রুহুল্লা দলের আদর্শগত বিচ্যুতি এবং প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সভায় উপস্থিত এক নেতার কথায়— রুহুল্লা অভিযোগ আনেন যে, ওমর দিল্লির তৈরি করা ভাষ্যের সঙ্গে গলা মিলিয়ে চলছেন, কাশ্মীরি জনগণের আস্থাকে সম্মান করছেন না।

দলীয় সূত্রের মতে, রুহুল্লা অনুচ্ছেদ ৩৭০-এর মতো বিষয়গুলি নিয়ে তেমন অগ্রগতি না হওয়ার জন্য দলীয় নেতৃত্বের সমালোচনা করেছেন এবং গুরুতর বিষয়ে আলোচনা কমিয়ে আনা হচ্ছে বলে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। জানা গিয়েছে যে, রুহুল্লা বৈঠকে বলেন, ‘‘দলের বৈঠক মিলনক্ষেত্রে পরিণত হওয়া উচিত নয়। আমরা জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে, ৩৭০ অনুচ্ছেদ ফেরানোর জন্য লড়াই করব। কিন্তু আমরা এক ইঞ্চিও নড়িনি। সময়ের সঙ্গে রাজ্যের তকমা হয়তো ফিরবে। কিন্তু আমাদের মনোযোগ যা নিয়ে ছিল, তাতেই নিবদ্ধ থাকা উচিত।’’

রুহুল্লার ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলেছেন যে, রুহুল্লা দলীয় নেতৃত্বকে বিদ্যুৎ, জল এবং রাস্তাঘাটের মতো দৈনন্দিন প্রশাসনিক বিষয়গুলির চেয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক উদ্বেগগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। রুহুল্লার আচরণে বিরক্ত ওমরও তাঁকে পাল্টা আক্রমণ করেন। সূত্রের খবর ওমর বলেন যে, ‘‘আপনি বলেছিলেন যে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল হওয়ার পরে আপনি ভোটে লড়বেন না। লড়েছেন। এখন আপনি দ্বিমুখী আচরণ করছেন।’’ এর উত্তরে রুহুল্লা সভা থেকে বেরনোর সিদ্ধান্ত নেন এবং বলেন যে তিনি নিজে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেননি। পরেও তাঁকে সমাজমাধ্যমে বলতে দেখা গিয়েছে, ‘‘ক্ষমতার উল্টো দিকে থাকার কথা ছিল আমাদের। আর মানুষের পাশে।’’ এর আগে ডিসেম্বর মাসে তিনি ওমরের বাসভবনের বাইরে ছাত্রবিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন