এলপিজি সিলিন্ডার। —প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশের শহরাঞ্চলগুলিতে পাইপলাইনে গ্যাস (পিএনজি) সরবরাহের পরিধি বৃদ্ধি করতে তৎপর হল কেন্দ্র। মঙ্গলবার বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, পিএনজি সংযোগ বাড়ানোর জন্য শহরাঞ্চলে পাইপলাইন গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থাগুলিকে (সিজিডি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, এলপিজি সিলিন্ডারের মজুতদারি ও কালোবাজারি প্রতিরোধে রাজ্য সরকারগুলিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছে কেন্দ্র।
ইরান যুদ্ধের আঁচে এ দেশের আমজনতার হেঁশেলে আগুন লেগেছে! হরমুজ় প্রণালীতে অচলাবস্থার কারণে তীব্র হচ্ছে রান্নার গ্যাস-সহ পেট্রোপণ্যের সঙ্কট-শঙ্কা। এই পরিস্থিতিতে কালোবাজারি ঠেকাতে ‘অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন’ বা ‘একা’ (এসেনশিয়াল কমোডিটিজ় অ্যাক্ট) জারি করেছে কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার জানিয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এলপিজির উৎপাদন ৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু চাহিদা বেড়েছে আরও অনেকটাই বেশি। অনলাইনে এলপিজি সিলিন্ডার বুকিং ৮৪ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ৯০ শতাংশ হয়েছে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এলপিজি সরবরাহের উপর নজরদারি অব্যাহত রাখা হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।
হরমুজ় প্রণালী থেকে পেট্রোপণ্যবাহী জাহাজ় শিবালিক মঙ্গলবার রাতে ভারতে পৌঁছোবে। নন্দাদেবী পৌঁছোতে পারে বুধবার। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম এশিয়া ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার পরে প্রায় ২ লক্ষ ২০ হাজার ভারতীয় দেশে ফিরেছেন। তেহরানে ভারতীয় দূতাবাস সম্পূর্ণ ভাবে কার্যক্ষম রয়েছে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক, বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রকের সঙ্গে যৌথ ভাবে দিল্লিতে ওই সাংবাদিক বৈঠকে জানানো হয়েছে, দেশে অশোধিত তেলের মজুত যথেষ্ট রয়েছে। তেল বিপণন সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে কোনও খুচরো বিক্রয়কেন্দ্রে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার ঘটনার রিপোর্ট হয়নি এবং পেট্রল ও ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।
প্রাধান্যপ্রাপ্ত (গৃহস্থালি, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রভৃতি) ক্ষেত্রগুলিতে সুরক্ষিত গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। যার মধ্যে পিএনজি এবং সিএনজি-এ ১০০-তে সরবরাহ অন্তর্ভুক্ত, আর শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের জন্য সরবরাহ প্রায় ৮০ শতাংশ নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। বড় শহর ও নগর এলাকায় বাণিজ্যিক এলপিজি ব্যবহারকারীদের পিএনজিতে পরিবর্তনের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং হোটেল, রেস্তরাঁ, হাসপাতাল ও হস্টেলগুলিকে অনুমোদিত সিজিজি সংস্থার মাধ্যমে পিএনজি সংযোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কেন্দ্র জানিয়েছে, গ্রাহকেরা ইমেল, গ্রাহক পোর্টাল, চিঠি বা কল সেন্টারের মাধ্যমে পিএনজি সংযোগের জন্য আবেদন করতে পারেন এবং যেখানে পাইপলাইন নেটওয়ার্ক আছে সেখানে দ্রুত সংযোগ দেওয়া সম্ভব।