Twisha Sharma Death Case

ত্বিশার মৃত্যুরহস্য: তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে, দ্বিতীয় বার ময়নাতদন্তে অনুমতি আদালতের! আত্মসমর্পণ অভিযুক্ত স্বামীর

ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন ত্বিশার স্বামী সমর্থ সিংহ। তবে শুক্রবারই তাঁর আইনজীবী আদালতে জানিয়েছিলেন, আত্মসমর্পণ করতে চান তাঁর মক্কেল। শুধু তা-ই নয়, আগাম জামিনের যে আবেদন করা হয়েছিল, তা-ও প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২২ মে ২০২৬ ১৫:৫০
Madhya Pradesh High Court allowed Twisha Sharma’s second autopsy by AIIMS Delhi team plea

স্বামী সমর্থ সিংহের সঙ্গে ত্বিশা। ছবি: সংগৃহীত।

ভোপালের ত্বিশা শর্মার মৃত্যুর ঘটনার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে দিচ্ছে মধ্যপ্রদেশ সরকার। ওই যুবতীর মৃত্যুর নেপথ্যে আসল কারণ কী, সেই রহস্যের জট এখনও কাটেনি। এই ঘটনায় ত্বিশার বাপের বাড়ির পরিবার খুনের অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, পণের জন্য ত্বিশাকে অত্যাচার করতেন তাঁর স্বামী এবং শাশুড়ি। ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন ত্বিশার স্বামী সমর্থ সিংহ। তবে শুক্রবার আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন তিনি। তার পরেই তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁর আইনজীবী আদালতে জানিয়েছেন, আগাম জামিনের যে আবেদন করা হয়েছিল, তা-ও প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।

Advertisement

ত্বিশা উত্তরপ্রদেশের নয়ডার বাসিন্দা। তবে বিয়ের পর থেকে ভোপালেই থাকতেন। গত ১২ মে ভোপালের কাটরা হিল্‌স এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হয় ত্বিশার ঝুলন্ত দেহ। ত্বিশার বাপের বাড়ির পরিবারের অভিযোগ, তাঁর স্বামী সমর্থ এবং শাশুড়ি গিরিবালা সিংহ খুন করেছেন ত্বিশাকে। পরিবারের দাবি, তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাওয়া গিয়েছে। বাপের বাড়ির অভিযোগ, সমর্থ এবং গিরিবালা মারধর করতেন ত্বিশাকে। দু’জনের বিরুদ্ধেই অভিযোগ দায়ের করেছেন ত্বিশার বাবা।

ইতিমধ্যেই ত্বিশার মৃত্যুর ঠিক আগের মুহূর্তের সিসিটিভি ফুটেজ, বন্ধুর সঙ্গে তাঁর হোয়াট্‌সঅ্যাপ চ্যাট প্রকাশ্যে এসেছে। এই সব তথ্য ত্বিশার মৃত্যুরহস্যকে আরও জটিল করে তুলেছে। ত্বিশার দেহের দ্বিতীয় বার ময়নাতদন্তের দাবি তুলেছে পরিবার। তাদের কথায়, ‘‘প্রথম বার যে ময়নাতদন্ত হয়েছে, তাতে বেশ কিছু গলদ ছিল।’’ শুক্রবার মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট পরিবারের দাবি মেনে ত্বিশার দেহের দ্বিতীয় বার ময়নাতদন্তের অনুমতি দিল। দিল্লির এমসের চিকিৎসকেরা ময়নাতদন্ত করবেন। তবে পরিবারের এই দাবিতে আপত্তি তুলেছিলেন শাশুড়ি গিরিবালা। তাঁর দাবি, এমসের চিকিৎসকেরাই ময়নাতদন্ত করেছেন। তার পরে আবার ময়নাতদন্তের প্রয়োজনীয়তা কী?

কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকদের সততা নিয়ে কোনও সন্দেহের অবকাশ নেই। তবে পরিবার যদি মনে করে কিছু উপেক্ষিত হয়েছে, তবে দ্বিতীয় মতামত নেওয়া যেতেই পারে।

এই ঘটনার তদন্তে পুলিশ ইতিমধ্যেই ৬ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে। তবে ত্বিশার মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিতে চায় সরকার। সমর্থের বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিস জারি হয়েছিল। তাঁর খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশিও চালায় পুলিশ। কিন্তু তাঁর ‘নাগাল’ পায়নি পুলিশ। এই আবহে শুক্রবারই সমর্থের আইনজীবী আদালতে জানিয়েছিলেন, তাঁর মক্কেল আত্মসমর্পণ করতে প্রস্তুত। তার পরে দেখা গেল, জবলপুর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন সমর্থ।

Advertisement
আরও পড়ুন