মণিপুরে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে যাওয়ার পথে মেইতেইদের একটি প্রতিনিধিদলকে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী আটকালে দু’পক্ষের সংঘর্ষ বাধে। এতে জখম হন ২২ জন। ছবি: পিটিআই।
মণিপুরে নাগা ও মেইতেই উভয় এলাকা আজও বন্ধ, বিক্ষোভ, অবরোধে উত্তপ্ত থাকল।
৫ দিনের বনধ্ শেষে শনিবার মেইতেই যৌথ মঞ্চ কোকোমির ডাকে রাজ্য জুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। কোকোমি ইতিমধ্যেই শাসক দল বিজেপিকে বয়কট করার কথা ঘোষণা করেছে। বিষ্ণুপুর জেলায় রকেট বোমা হামলায় নিহত দুই শিশুর হত্যাকারীদের গ্রেফতারে এনআইএ তদন্তে অখুশি মেইতেইবিক্ষোভকারীরা আজ মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে মিছিল করে ছয় দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি জমা দেওয়ার চেষ্টা করেন। নিরাপত্তা বাহিনী মিছিল আটকাতে গেলে বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের দিকেএগোলে বাহিনী কাঁদানে গ্যাস, লাঠি চালায়। এই ঘটনায় অন্তত ২২ জন আহত হন এবং তাঁদের অনেককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে প্রশাসনের অনুমতিতে সংগঠনের কয়েক জন নেতামুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে নিজেদের দাবিদাওয়া-সহ একটি স্মারকলিপি জমা দেন। পরে মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইয়ুমনাম খেমচাঁদ সিংহ সাংবাদিক বৈঠক করে নিহত দুই শিশুর পরিবারের কাছে দেহ গ্রহণ করে শেষকৃত্য সম্পন্ন করার আবেদন জানান। ৭ এপ্রিলের ঘটনায় দোষীদের গ্রেফতার ও শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত মৃতদেহ গ্রহণকরবেন না বলে জানিয়েছিলেন দুই শিশুর পরিবারের সদস্যেরা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় সরকার জড়িতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, “জনগণ ও নাগরিক সংগঠনগুলির সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই শান্তি ফেরানো সম্ভব।”
এ দিকে, উখরুলে তালুই গ্রামে গ্রামবাসীদের ব্যারিকেড ভেঙে চলে যায় আসাম রাইফেলসের কনভয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এই ঘটনায় দুই গ্রামবাসী আহত হন। অভিযোগ, কনভয়টি এগিয়ে যাওয়ার সময় একাধিক বার গুলির শব্দ শোনা যায়, যার ফলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হুমি এলাকার কাছে গ্রামবাসীরা ফের কনভয় থামানোর চেষ্টা করলে পুনরায় গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ। উখরুলের কুকি সিএসও ওয়ার্কিং কমিটি তাদের এলাকায় বারবার নাগাদের হামলার ঘটনাকে ‘যুদ্ধের স্পষ্ট ঘোষণা’ বলে উল্লেখ করে জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে কুকিরা ‘পূর্ণমাত্রায় আত্মরক্ষার পথ’ বেছে নিতে বাধ্য হবে। এর জন্য দায়ী হবে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার’।