—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
রাশিয়া থেকে কি অপরিশোধিত তেল আমদানি অব্যাহত রাখবে ভারত? না কি কমবে বা বন্ধ হবে? ভারত-আমেরিকার বাণিজ্য-সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে বেশি আলোচিত প্রশ্ন নিয়ে আবার এক বার নয়াদিল্লি নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক সরাসরি ওই প্রশ্নের উত্তর না-দিয়ে জানাল, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের কাছে অগ্রাধিকার!
শনিবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘‘ভারত কোথা থেকে জ্বালানি আমদানি করবে আর কোথা থেকে নয়, তা নিয়ে অতীতে সরকারের তরফে বার বার অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের কাছে অগ্রাধিকার পায়।’’ তিনি আরও জানান, বাজার এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তেলের উৎস খোঁজার ক্ষেত্রে বৈচিত্র নিশ্চিত করাই ভারতের কৌশলগত নীতি। সব পদক্ষেপই এই বিষয়ের উপর নির্ভর করে এবং ভবিষ্যতেও করবে।
বাণিজ্যচুক্তির বিষয় ঘোষণার সময়ই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ভারত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে রাশিয়ার থেকে তেল কেনা বন্ধের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। শুক্রবার (ভারতীয় সময় অনুসারে) ট্রাম্প ভারতের উপর চাপানো ২৫ শতাংশ ‘শাস্তিমূলক কর’ প্রত্যাহারের ঘোষণাপত্রে সই করেন। রাশিয়া থেকে তেল কেনার শাস্তি হিসাবে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক উঠে যাওয়ায়, ভারতীয় পণ্যে সর্বোচ্চ মার্কিন শুল্কের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ শতাংশে।
তবে তার পরেও রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানির বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই গিয়েছে। এ বিষয়ে নয়াদিল্লি সরকারি ভাবে প্রকাশ্যে সরাসরি কোনও মন্তব্য করেনি। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়ল জানিয়েছিলেন, দেশবাসীর জন্য জ্বালানি নিশ্চিত করার জন্য ভারত ভিন্ন ভিন্ন দেশ থেকে তেল কিনবে। সেই প্রসঙ্গে রাশিয়াও নিজের মতও প্রকাশ করে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ বলেন, “ভারত যে শুধু রাশিয়ার থেকেই তেল কেনে, এমন নয়। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ক্ষেত্রে সকলেই জানেন যে রাশিয়া ভারতের জন্য একমাত্র সরবরাহকারী দেশ নয়। ভারত সবসময়ই অন্য বিভিন্ন দেশ থেকে তেল কিনেছে। ফলে আমরা এখানে কোনও নতুনত্ব দেখছি না।” রাশিয়া এ-ও জানায়, তেল কেনার ব্যাপারে ভারতের স্বাধীনতা রয়েছে!
শনিবার আমেরিকা-ভারতের বাণিজ্য-সমঝোতা নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন পীযূষ। সেখানে তিনি স্পষ্ট করেন, চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে কী কী সুবিধা পাবে ভারত! বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, আমেরিকার সঙ্গে অন্তর্বর্তী বাণিজ্য-সমঝোতা হলেও কৃষকদের স্বার্থরক্ষায় কেন্দ্র দায়বদ্ধ। তাই বেশ কিছু কৃষিপণ্য এবং দুগ্ধজাত পণ্যকে এই বোঝাপড়ার বাইরে রাখা হচ্ছে। সেই সাংবাদিক বৈঠকেই রাশিয়া থেকে তেল কেনার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি জানান, এ ব্যাপারে বিদেশ মন্ত্রক জানাবে।