India Bangladesh Push Back

অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোই ভারতের নীতি! রাজ্যে বিজেপি জেতার পর বাংলাদেশের মন্ত্রীকে জবাব দিল্লির

একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করতে চলেছে বিজেপি। তার মধ্যেই ‘পুশ ইন’ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান। জবাব দিল দিল্লিও।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৭ মে ২০২৬ ১৮:৩১
(বাঁ দিকে) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বাইরের দেশ থেকে এসে অবৈধ ভাবে ভারতে যাঁরা বাস করছেন, তাঁদের চিহ্নিত করা এবং নিজের দেশে ফিরিয়ে দেওয়াই ভারতের নীতি। এতে বাংলাদেশের কাছেও সহযোগিতা চাইল বিদেশ মন্ত্রক। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পর অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে ফেরানো নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন সে দেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বলেছিলেন, ভারত সরকার এমন কোনও পদক্ষেপ করলে ঢাকাও ব্যবস্থা নেবে। খলিলুরের সেই মন্তব্যের জবাব দিলেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।

Advertisement

গত সোমবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষিত হয়। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে এ রাজ্যে সরকার গঠন করতে চলেছে বিজেপি। ২৯৪টির মধ্যে তারা ২০৭টি আসনে জয় পেয়েছে। এর পর মঙ্গলবারই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক এই পটপরিবর্তন নিয়ে মুখ খুলেছিলেন খলিলুর। বলেছিলেন, ক্ষমতার পালাবদলের পর পশ্চিমবঙ্গ থেকে যদি ‘পুশ ইন’-এর মতো ঘটনা ঘটে, তবে ব্যবস্থা নেবে ঢাকা। বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি-র সমাজমাধ্যমে তাঁর ছবি-সহ এই মন্তব্য পোস্ট করা হয়।

বাংলাদেশে যা ‘পুশ ইন’, তা ভারতে ‘পুশ ব্যাক’ হিসাবে পরিচিত। এ রাজ্যে নির্বাচনী প্রচার পর্বেই বিজেপি বার বার দাবি করেছে, ক্ষমতায় এলে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে খুঁজে দেশ থেকে বার করে দেওয়া হবে। খলিলুরের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ভারত সরকারের তরফে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, অবৈধ ভাবে যে সমস্ত বিদেশি নাগরিক এ দেশে থাকছেন, তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়াই ভারতের নীতি। এর বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার খলিলুরের মন্তব্য প্রসঙ্গে রণধীর বলেন, ‘‘গত কয়েক দিন ধরে এমন একাধিক মন্তব্য আমাদের চোখে পড়েছে। অবৈধ বাংলাদেশিদের ভারত থেকে প্রত্যর্পণের মূল বিষয়টির প্রেক্ষাপটে মন্তব্যগুলিকে আমাদের বিচার করতে হবে। এতে অবশ্যই বাংলাদেশের সহযোগিতা প্রয়োজন।’’ রণধীর জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের সঙ্গে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ২৮৬০টির বেশি মামলা ঝুলে রয়েছে। তার মধ্যে অনেকগুলিই বিবেচনাধীন পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে। তাঁর কথায়, ‘‘বাংলাদেশ তাদের নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে বলে আমরা আশা করছি, যাতে ভারত থেকে অবৈধ অভিবাসীদের প্রত্যর্পণ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়।’’

শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হবে। সে দিনই পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করবে বিজেপি। এ রাজ্যে তাদের নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম ‘হাতিয়ার’ ছিল অবৈধ অনুপ্রবেশের সমস্যা। মোদী, শাহেরা যতগুলি জায়গায় সভা করেছেন, অনুপ্রবেশকারীদের রাজ্য থেকে সরানোর বিষয়ে সুর চড়িয়েছেন। ক্ষমতায় আসার পর এ বিষয়ে তারা কী পদক্ষেপ করে, সে দিকে নজর রয়েছে বাংলাদেশেরও।

Advertisement
আরও পড়ুন