(বাঁ দিকে) এই ক্যাপসুলই বিলি করা হচ্ছিল। (ডান দিকে) অভিযুক্ত ব্যক্তি। ছবি: সংগৃহীত।
পরিকল্পনা ছিল ১৫ হাজার মানুষকে হত্যা করার! আর সেই লক্ষ পূরণে ক্যাপসুলের মধ্যে ইঁদুরের বিষ ভরে একটি শোভাযাত্রায় বিলি করছিলেন। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েক জনের হাতে সেই ক্যাপসুল তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু কয়েক জনের সন্দেহ হওয়ায় ওই ব্যক্তিকে ধরে ফেলেন। তার পর পুলিশের হাতে তুলে দেন। অভিযুক্তের কাছ থেকে ১৪০০ ক্যাপসুল উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। শুক্রবার মুম্বইয়ের বাইকুলার ঘটনা।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম ফৈয়াজ় প্রেমজি। তাঁর বিলি করা ক্যাপসুল খেয়ে কয়েক জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। তবে অবস্থা স্থিতিশীল। পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার একটি শোভাযাত্রায় ক্যাপসুল বিলি করছিলেন প্রেমজি। বিলি করার সময় তিনি দাবি করেন, এই ক্যাপসুল খেলে ব্যথা নিরাময় হবে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। অনেকে তাঁর কথা বিশ্বাস করে সেই ক্যাপসুল নেন। কয়েক জন খেয়েও নেন সেই ক্যাপসুল। প্রেমজিকে কিছু একটা বিলি করতে দেখে শোভাযাত্রায় থাকা কয়েক জন মহিলা স্বেচ্ছাসেবীর সন্দেহ হওয়ায় পুলিশকে সতর্ক করেন। তার পরই পুলিশ এসে প্রেমজিকে আটক করে।
ডেপুটি পুলিশ কমিশনার জয়ন্ত মীনা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি জেরায় দাবি করেছেন, তিনি ১৫ হাজার মানুষকে হত্যার ছক কষেছিলেন। তাই অনলাইন থেকে ৩০ হাজার ক্যাপসুলের খোল কিনেছিলেন। তার পর ৫০ কেজি জিঙ্ক ফসফাইড কিনেছিলেন। প্রেমজির কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ক্যাপসুলগুলি ফরেনসিক গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, দেখা গিয়েছে, ওই ক্যাপসুলের মধ্যে ইঁদুর মারার বিষ ভরা ছিল। কিন্তু কেন তিনি এমন পরিকল্পনা করেছিলেন, তার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তকারী সূত্রের খবর, কতগুলি ক্যাপসুল বিলি করা হয়েছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে। প্রেমজির আস্তানা থেকে কয়েক হাজার ক্যাপসুলের ফাঁকা খোল এবং কীটপতঙ্গ মারার রাসায়নিক উদ্ধার হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রেমজি বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে স্নাতক। মুম্বইয়ের ডোংরির একটি হোটেলে উঠেছিলেন। ইরাক এবং ইরানেও বেশ কয়েক বার গিয়েছিলেন। কী ভাবে এত ক্যাপসুল অনলাইনে পেলেন তিনি, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রেমজির সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রেমজির দু’দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।