—প্রতীকী চিত্র।
জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ ও তাদের কাছে অস্ত্র সরবরাহ করার অভিযোগে সাত জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছে তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। এদের মধ্যে একজন, আমেরিকার নাগরিক ম্যাথিউ অ্যারন ভ্যানডাইককে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এই বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে এক জন আমেরিকার, অন্য ছয়জন ইউক্রেনের। লখনউ বিমানবন্দর থেকে ইউক্রেনের তিন নাগরিক এবং দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ইউক্রেনের আরও তিনজনকে গত ১৩ মার্চ গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ-র মতো কঠোর আইনি ধারায় মামলা করা হয়েছে। তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করানো হলে, প্রাথমিক ভাবে তিনদিনের জন্য হেফাজতে পাঠানো হয়। এরপর সোমবার ফের ১১ দিনের জন্য তাদের এনআইএ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তদের গতিবিধি জানতে এখন জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা। কোন কোন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে এই বিদেশিদের যোগ ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই বিদেশিদের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছেন এনআইএ-র তদন্তকারীরা। তাদের দাবি, অনুমতি ছাড়াই এই সাত জন বিদেশি নাগরিক মিজ়োরামে প্রবেশ করেছিল। তারপর তারা অবৈধ ভাবে মায়ানমারে পৌঁছয়। সেখানে তারা ভারতের সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে যোগ রয়েছে— এমন জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে অস্ত্রশিক্ষা দিয়েছে। এরা ইউরোপ থেকে বিরাট সংখ্যক ড্রোন নিয়ে এসেছিল বলেও তদন্তকারীদের দাবি।
তদন্তকারীরা আরও জেনেছেন, আমেরিকার নাগরিক ম্যাথিউ অতীতে ইরাকে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের নাগরিকদের প্রশিক্ষণও দিয়েছে। আমেরিকার দূতাবাস অবশ্য তাকে নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চায়নি। নয়াদিল্লিতে আমেরিকার দূতাবাসের তরফে জানানো হয়েছে, তারা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত রয়েছেন। তবে গোপনীয়তার কারণে আমেরিকার নাগরিক সম্পর্কে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হচ্ছে না।
তবে ইউক্রেনের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষে জানানো হয়েছে, ধৃত ছয় জন তাদের দেশের নাগরিক। ইউক্রেনের দূতাবাস তাদের নাগরিকদের সঙ্গে দেখা করার জন্য ভারত সরকারের অনুমতি চেয়েছে।