Impeachment Proposal of Gyanesh Kumar

জ্ঞানেশ-প্রস্তাব খারিজে কোর্টে যেতে পারেন বিরোধীরা

শুধুমাত্র প্রশাসনিক মতভেদ বা রাজনৈতিক ধারণার ভিত্তিতে অপসারণ প্রস্তাব গৃহীত হলে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা চুরমার হয়ে যাবে।

প্রেমাংশু চৌধুরী, অগ্নি রায়
শেষ আপডেট: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৪২
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। ফাইল চিত্র।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের জন্য বিরোধীদের প্রস্তাব খারিজ হয়ে যাওয়ার পরে এ নিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবছে বিরোধী শিবির। তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সমস্ত বিকল্প নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংসদের সচিবালয় জানিয়েছিল, দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর প্রস্তাব লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণণ খারিজ করে দিয়েছেন। সচিবালয়ের তরফে এর কারণ জানানো না হলেও বুধবার রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের তরফে বিরোধীদের এর কারণ জানানো হয়েছে। তাতে চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের সাত দফা অভিযোগ রাজনৈতিক বিতর্কের জন্য প্রাসঙ্গিক হতে পারে। কিন্তু অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় মানদণ্ডে সেই অভিযোগ উতরোয় না। শুধুমাত্র প্রশাসনিক মতভেদ বা রাজনৈতিক ধারণার ভিত্তিতে অপসারণ প্রস্তাব গৃহীত হলে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা চুরমার হয়ে যাবে। সংবিধান নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতায় রক্ষাকবচ দিয়েছে বলেও মনে করিয়ে দিয়েছেন চেয়ারম্যান।

আজ রাজ্যসভার সাংসদ তথা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কপিল সিব্বল বলেন, ‘‘এর পরে আদালতের দ্বারস্থ হওয়াই একমাত্র উপায়। আদালতই এর ফয়সালা করতে পারে।’’ তাঁর সঙ্গে পরামর্শ করা হলে তিনি তেমনই উপদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন সিব্বল। তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, ‘‘আমরা সমস্ত সমমনস্ক দল এ নিয়ে কথা বলছি। আমরা একটি টিম হিসেবে এর উত্তর দেব। আগামিকাল বা পরশুর মধ্যে সমবেত ভাবে এ বিষয়ে ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের কথা জানানো হবে।” সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে রাজ্যসভার উপদলনেত্রী সাগরিকা ঘোষ বলেন, ‘‘সমস্ত বিকল্প নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।’’

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ‘অসদাচরণ’ প্রমাণ করতে তাঁর বিরুদ্ধে বিরোধীরা অপসারণ প্রস্তাবে সাত দফা অভিযোগ তুলেছিলে। এক, জ্ঞানেশের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দুই, তিনি পক্ষপাত ও বৈষম্য করছেন। তিন, নির্বাচনী প্রতারণার তদন্তে বাধা দিয়েছেন। চার, বিহারে এসআইআর-এ বহু মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। পাঁচ, সেই বিহার মডেল গোটা দেশে প্রয়োগ হচ্ছে। ছয়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করছেন। সাত, কমিশনের স্বাধীনতা রক্ষায় ব্যর্থ হয়ে তিনি শাসকের অঙ্গুলিহেলনে কাজ করছেন। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, বিরোধীদের অভিযোগের কোনও প্রমাণ নেই। যদি সমস্ত অভিযোগ সত্যি বলেও বিশ্বাস করা হয়, তাকে কি অসদাচরণ বলা যায়, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। ১৭ পৃষ্ঠার নির্দেশিকায় প্রতিটি অভিযোগ নিয়ে উত্তর দিয়েছেন চেয়ারম্যান। এসআইআর নিয়ে অভিযোগ ‘বিচারাধীন’ বলে জানিয়েছেন তিনি।

সিব্বলের বক্তব্য, ‘‘প্রথমত, এ ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান নিজেই বিচারপতির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। তা তিনি পারেন কি না, সেটাই সাংবিধানিক প্রশ্ন। এর ফয়সালা আদালতই করতে পারে। চেয়ারম্যান অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন না করে প্রথমেই প্রস্তাব খারিজ করেছেন। কীসের ভিত্তিতে? দ্বিতীয়ত, জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের প্রস্তাব ১২ মার্চ জমা পড়েছিল। ২৫ দিনে তার সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছে। অথচ বিচারপতি শেখর কুমার যাদবের ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব দেড় বছর আগে জমা পড়লেও তার কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। এ নিয়ে কি ইচ্ছেমতো সিদ্ধান্ত হবে?’’

ডেরেক বলেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরানোর প্রস্তাব নিয়ে যে নোটিসজমা দেওয়া হয়েছিল তাতে লোকসভা, রাজ্যসভা মিলিয়ে ১৯৩ জনসাংসদদের সই ছিল। আসলে এই প্রস্তাবের সমর্থনে সাড়ে তিনশোর বেশি সাংসদের সমর্থন ছিল। কিছু আজে বাজে কারণ দেখিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। সিব্বলের বক্তব্য, চেয়ারম্যান এখানে রাজ্যসভার ১০০ জনের বেশি সাংসদের ভাবনার থেকে নিজের ভাবনাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

আরও পড়ুন