প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। —ফাইল চিত্র।
আগামী সপ্তাহের শেষে ইউরোপ যাওয়ার পথে ঝটিকা সফরে যুদ্ধপীড়িত সংযুক্ত আরব আমিরশাহি যাবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই সফরের গুরুত্ব বাণিজ্যিক এবং ভূকৌশলগত কারণে এতটাই যে তার আগে দফায় দফায় ভারতীয় কর্তারা আবু ধাবি যাচ্ছেন। কিন্তু নয়াদিল্লি কোনও নীতি বা অবস্থান নিতে পারছে না, কারণ ইরানের পক্ষ থেকে আবু ধাবি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত।
আজ সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে নতুন করে ইরান আবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। সে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, এতে ৩ জন আহত হয়েছেন। মন্ত্রকের দাবি, যুদ্ধ শুরুর পরে এখনও পর্যন্ত ইরানের ছোড়া ৫৫১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ২৯টি ক্রুজ় ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২,২৬৩টি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, দু’দিন আগেই সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ফুজাইরাহ তেল শিল্পাঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয় এবং তাতে তিন ভারতীয় শ্রমিক আহত হন। এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে এই হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।
আপাতত সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে রয়েছেন বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রী। তিনি গত কাল গিয়ে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন সে দেশের মন্ত্রী রিম আল হাশিমির সঙ্গে। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, দু’পক্ষ বাণিজ্য, লগ্নি, পারস্পরিক আর্থিক সহযোগ, বিদ্যুৎ, সংযোগ, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, আর্থিক প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে নিজেদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলি পর্যালোচনা করেছেন। হাশিমি ভারতে আরব আমিরশাহির বিশেষ দূতও। এর পরে আবু ধাবিতেই ত্রিপাক্ষিক বৈঠক করেন মিস্রী, হাশিমি এবং ফ্রান্সের বিদেশ মন্ত্রকের সচিব মার্ত্যা ব্রিয়্যাঁ। খবর, তিনটি দেশ তাদের অংশীদারি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সময়সীমা তৈরি করে কাজ করার প্রশ্নে একজোট হয়েছে। কথা হয়েছে কৃত্রিম মেধা, শক্তিক্ষেত্র, শিক্ষার মতো বিষয় নিয়ে।
আজ সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জায়সওয়াল বলেন, “আমরা চাই দ্রুত সংঘাত বন্ধ হোক এবং শান্তি ফিরে আসুক। সাধারণ মানুষ এবং নাগরিক পরিকাঠামোর উপরে হামলা একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না।” পাশাপাশি সরকার হিসাব দিয়ে জানায়, হরমুজ় প্রণালী দিয়ে ১৩টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এখনও আসা বাকি রয়েছে। হিসাব দিয়ে বলা হয়েছে এর মধ্যে ১টি এলপিজিবাহী, ৫টি অশোধিত তেলবাহী, একটি রাসায়নিক ট্যাঙ্কারবাহী, তিনটি পণ্যবাহী, ২টি শস্যবাহী এবং ১টি ড্রেজ়ারবাহী
জাহাজ রয়েছে।