রাহুল গান্ধী। — ফাইল চিত্র।
নিট প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ডে অবিলম্বে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করার দাবি জানালেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর কথায়, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর উচিত অবিলম্বে নির্দেশ জারি করা, যাতে ধর্মেন্দ্র প্রধান হয় পদত্যাগ করেন, অথবা তাঁকে মন্ত্রিপদ থেকে বরখাস্ত করা হয়।’’ রাহুলের অভিযোগ, এর পিছনে শিক্ষামন্ত্রী ও বিজেপি-আরএসএসের যোগসাজশ রয়েছে এবং ২২ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলা হয়েছে। ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলকে গ্রেফতার করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
গত ৩ মে গোটা দেশে সর্বভারতীয় ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষা (নিট) হয়। প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠায় গত ১২ মে ওই পরীক্ষা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয় ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। প্রশ্ন ফাঁসের পিছনে এনটিএ-র কিছু সদস্যদের ভূমিকা রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। এই আবহে আজও এনটিএ দফতরের বাইরে ধর্না দেয় কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন— এনএসইউআই। নিট বাতিল এবং শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে সরব হন কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে কংগ্রেস সদস্যরা এনটিএ দফতরে ঢুকতে গেলে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। আটক হন অনেক এনএসইউআই সমর্থক।
আজ সমাজমাধ্যমে রাহুল বলেন, ‘‘গত দু’বছর ধরে নিট-এ বসার জন্য ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থী দিনরাত এক করে পরিশ্রম করেছিলেন। কিন্তু তাঁদের সব পরিশ্রম বিফলে গিয়েছে। সারা দেশ জানে, পরীক্ষার দু’দিন আগে থেকেই ওয়টস্যাপে নিটের প্রশ্ন ছড়িয়ে পড়েছিল।’’ তাঁর বক্তব্য, ‘‘দেশের শিক্ষামন্ত্রী বলছেন এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নেই। তিনি কমিটির পরামর্শে গা করেননি। তাঁর যুক্তি ছিল, বিরোধী মনোভাবাপন্নরা কমিটির সদস্য। তাই ওই পরামর্শের প্রয়োজন নেই। কিন্তু সত্যিটা হল, তাঁরা দেশের আত্মার ক্ষতি করে চলেছেন। এ হল আরএসএস, বিজেপি ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যে উপাচার্যদের বসানো হয়েছে, তাঁদের টাকা রোজগারের যোগসাজশ। এই চক্র দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে শেষ করেছে। দেশ জানে, উপাচার্য হতে চাইলে আপনার কোনও বিষয়ে দক্ষতা না থাকলেও চলবে। আপনার বিচারধারা আরএসএসের ভাবধারার সঙ্গে মিলে গেলেই উপাচার্য হতে পারবেন। না হলে নয়।’’ রাহুলের দাবি, এ ধরনের যোগসাজশের ফলে এ দেশে ৮০ বার পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। দু’কোটি পরীক্ষার্থীকে যার জন্য ভুগতেহয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর উচিত অবিলম্বে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ইস্তফার নির্দেশ দেওয়া।
এ দিকে বারংবার বিভিন্ন সর্বভারতীয় পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হওয়ায় এনটিএ-কে ভেঙে দেওয়ার দাবি জানাল ইউনাইটেড ডক্টরস ফ্রন্ট (ইউডিএফ)। আজ সংগঠনের চেয়ারম্যান লক্ষ্য মিত্তল প্রধানমন্ত্রীকে লিখেছেন, ‘বর্তমানে দেশের চিকিৎসা শিক্ষাব্যবস্থা গুরুতর সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এনটিএ, এনএমসি-র দুর্নীতি ও অযোগ্যতার কারণে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে।’