26/11 Mumbai Attack

মুম্বই হামলার অন্যতম মূলচক্রী রানার নাগরিকত্ব কেড়ে নিচ্ছে কানাডা! কার্নের ভারত সফরের আগেই কি ঘোষণা করা হবে?

রানা এখন দিল্লির তিহাড় জেলে বন্দি। ৬৫ বছর বয়সি পাক বংশোদ্ভূত কানাডার এই নাগরিককে গত এপ্রিল মাসে ভারতের হাতে তুলে দেয় আমেরিকা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:১৫
তাহাউর রানা।

তাহাউর রানা। —ফাইল চিত্র।

২০০৮ সালের মুম্বই হামলার অন্যতম মূলচক্রী তাহাউর রানার নাগরিকত্ব কেড়ে নিচ্ছে কানাডা। এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু না-জানানো হলেও সে দেশের সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবাল নিউজ়’-এর একটি প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ভারতে আসছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নে। তার আগে রানার নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার বিষয়ে কানাডা সরকারের তরফে কিছু আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয় কি না, সে দিকে নজর রয়েছে সকলের।

Advertisement

রানা এখন দিল্লির তিহাড় জেলে বন্দি। ৬৫ বছর বয়সি পাক বংশোদ্ভূত কানাডার এই নাগরিককে গত এপ্রিল মাসে ভারতের হাতে তুলে দেয় আমেরিকা। বিমানে নয়াদিল্লি পৌঁছোনোর পরেই তাঁকে গ্রেফতার করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। ভারতে আসার আগে দীর্ঘ দিন আমেরিকার জেলে বন্দি ছিলেন রানা।

কানাডার সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবাল নিউজ়’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, সে দেশের অভিবাসন, শরণার্থী এবং নাগরিকত্ব সংক্রান্ত দফতর রানার নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে সন্ত্রাস-যোগের কারণে নয়, ভুল তথ্য দেওয়ার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, ২০০০ সালে কানাডার নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছিলেন রানা। সেই সময় তিনি দাবি করেছিলেন, শেষ চার বছর তিনি কানাডার টরেন্টো এব‌ং অটোয়ায় বসবাস করেছেন। কিন্তু কানাডা পুলিশের তদন্তে দেখা যায়, ওই সময়টা তিনি আমেরিকার শিকাগোয় ছিলেন। সেখানে প্রচুর জমিজায়গাও কিনেছিলেন। ‘মিথ্যা বয়ান দেওয়া’ এবং ‘কানাডার নাগরিকত্ব আইনের অবমাননা’ করার জন্যই রানার নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অন্য দিকে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম বার ভারতে আসছেন কার্নে। তাঁর পূর্বসূরি জাস্টিন ট্রুডোর আমলে ভারত-কানাডা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের খানিক অবনতি হয়েছিল। কানাডায় খলিস্তানপন্থী সন্ত্রাসবাদী হরদীপ সিংহ নিজ্জরের হত্যাকাণ্ডে ভারতের ভূমিকা রয়েছে বলে প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো। তাঁর ওই মন্তব্যের জেরে চিড় ধরেছিল ভারত-কানাডা সম্পর্কে। ভারত পাল্টা অভিযোগ করে যে, বিচ্ছিন্নতাবাদী, খলিস্তানপন্থীদের মদত দিচ্ছে কানাডা সরকার।

কার্নে অবশ্য ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এমনকি নিজ্জর-হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত ‘স্পর্শকাতর তথ্য’ প্রকাশ্যে না-আনার জন্য কানাডার সরকারের তরফে সে দেশের আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কার্নের ভারত সফরের ঠিক আগেই রানার নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার বিষয়টিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

Advertisement
আরও পড়ুন