(বাঁ দিক থেকে) অমিত শাহ, ওম বিড়লা এবং রাহুল গান্ধী। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
বার্তা দিয়েছিলেন মঙ্গলবারই। শাসক শিবিরের প্রতি ‘পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের’ অভিযোগে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে বিরোধীদের দেওয়া অনাস্থা নোটিস গৃহীত হওয়ার পর। বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অনাস্থা বিতর্কে আবার নিশানা করলেন ‘বিরোধী শিবিরের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ’কে। শাসক শিবিরের অন্য বক্তাদের মতোই শাহের আক্রমণেরও মূল লক্ষ্য হলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বিতর্কের শেষে ধ্বনিভোটে খারিজ হয়ে গেল স্পিকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাব।
বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বুধবার স্পিকার বিড়লার ‘পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের’ উদাহরণ দিতে গিয়ে বলেন, ‘‘যখনই আমরা দাঁড়িয়ে কথা বলতে যাই, আমাদের থামিয়ে দেওয়া হয়।’’ রাহুলকে নিশানা করে শাহের দাবি, ‘‘রাহুল অভিযোগ করেন, তাঁকে নাকি বলতে দেওয়া হয় না। আসলে তিনি বলতেই চান না।’’ এর পরেই বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে পরিসংখ্যান পেশ করে শাহ বলেন, ‘‘সপ্তদশ লোকসভায় রাহুল গান্ধীর উপস্থিতি ছিল ৫১ শতাংশ। সেখানে সাংসদদের গড় উপস্থিতির হার ৬৬ শতাংশ, ষোড়শ লোকসভায় তাঁর (রাহুল) উপস্থিতি ছিল ৫২ শতাংশ। সাংসদদের গড়ে ৮০ শতাংশ হাজিরা ছিল ওই লোকসভায়।’’
গত ১০ ফেব্রুয়ারি বিরোধীদের তরফে অনাস্থা নোটিস জমা দেওয়ার পরেই বিড়লা সভা রীতি মেনে সভা পরিচালনা থেকে বিরত ছিলেন। বুধবার অধিবেশন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সাংসদ জগদম্বিকা পাল। বিরোধীরা ভোটাভুটির দাবি তুললেও তিনি তা খারিজ করে ধ্বনিভোট গ্রহণের নির্দেশ দেন। যা নিয়ে সাময়িক ভাবে উত্তেজনা ছড়ায় লোকসভায়। বুধবার বিতর্ক-পর্বে তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ বলেন, ‘‘সংসদে প্রায় কোনও গণতন্ত্র অবশিষ্ট নেই। কারণ, বিরোধীদলের সদস্যদের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে। আমাদের যদি নিজেদের অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করতে হয়, তা হলে জনগণের জন্য কী ভাবে লড়াই করব!’’ সেই সঙ্গে সরকারপক্ষের উদ্দেশে যাদবপুরের সাংসদের মন্তব্য, ‘‘পার্টি অফিস বানিয়ে ফেলবেন না সংসদকে।’’
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে তৃণমূল সাংসদ সায়নী তাঁর বক্তৃতায় নাম করে রাহুল এবং সমাজবাদী পার্টির সাংসদ অখিলেশ যাদবের বক্তৃতায় বাধাদানের অভিযোগ তুলেছেন সরকারপক্ষ এবং স্পিকার বিড়লার বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, ‘‘রেলওয়ে বাজেট বন্ধ করা হয়েছে, বিলগুলি মধ্যরাতে পেশ করা হচ্ছে। রাহুল গান্ধী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব কোনও বই উদ্ধৃত করতে পারছেন না। কিন্তু তাদের ‘প্রিয় ছেলেটিকে’ সেই অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।’’ তাঁর ওই বক্তব্যের জবাবে শাহ বলেন, ‘‘সংসদ পরিচালিত হয় সংসদীয় বিধি মেনে। কোনও রাজনৈতিক দলের দ্বারা নয়।’’ স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থাকে ‘দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি প্রশ্ন তোলা সমান’ বলে বর্ণনা করে বিরোধীদের ‘অগণতান্ত্রিক এবং অসৎ’ বলে চিহ্নিত করেন তিনি। শাহের বক্তৃতার কিছু অংশ নিয়ে আপত্তি তুলে কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে-সহ বিরোধী দলের সাংসদেরা তাঁর ক্ষমাপ্রার্থনার দাবি তুললেও তাতে আমল দেননি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।