ট্র্যাপ ক্যামেরায় ধরা পড়ল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। ছবি: সংগৃহীত।
ঘন বন। রাতের অন্ধকারে হঠাৎই ওই অভয়ারণ্যে লাগানো ট্র্যাপ ক্যামেরায় ধরা পড়ল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার! ২০ বছর আগে অরুণাচল প্রদেশের ডি এরিং মেমোরিয়ায় অভয়ারণ্যে শেষ বার রয়্যাল বেঙ্গলের অস্তিত্ব টের পাওয়া গিয়েছিল।
অরুণাচলের ওই অভয়ারণ্যে নজরদারি চালাতে বিভিন্ন জায়গায় ট্র্যাপ ক্যামেরা বসানো রয়েছে। ওই ক্যামেরাগুলি পরিচালনায় সহায়তা করে ‘অশোকা ট্রাস্ট ফর রিসার্চ ইন ইকোলজি অ্যান্ড দ্য এনভায়রনমেন্ট’। সম্প্রতি তেমনই এক ক্যামেরায় রয়্যাল বেঙ্গলের গতিবিধি বন্দি হয়েছে। কর্তাদের মতে, ২০০৫ সালে ওই অভয়ারণ্যে বাঘের নিশ্চিত উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছিল। তবে পরে নানা সময়ে বিভিন্ন অসমর্থিত সূত্রের তরফে ওই অভয়ারণ্যে বাঘের উপস্থিতির দাবি করা হলেও কোনও প্রমাণ মেলেনি।
বনকর্তা কেম্পি এটে রয়্যাল বেঙ্গল দর্শনকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘প্রায় দুই দশক পর এই অভয়ারণ্যে বাঘের প্রত্যাবর্তন বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিস্থাপকতার প্রতিফলন।’’ এর জন্য বিভিন্ন স্তরের বনকর্মীদের ধন্যবাদ জানান তিনি। ওই অভয়ারণ্যের দায়িত্বে থাকা কর্তাদের মতে, গত এক বছর ধরে বাঘের আনাগোনার সম্ভাব্য আগমনের লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করছিলেন। তবে স্পষ্ট প্রমাণ মেলেনি। এ বার ক্যামেরায় বাঘের উপস্থিতি ধরা পড়ল, যা পর্যটকদের আকর্ষণ করবে।
এই অভয়ারণ্যটি পূর্ব সিয়াং জেলার পাসিঘাট থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে রয়েছে। ১৯০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত অরুণাচলের এই অভয়ারণ্যটি। ১৯৭৮ সালে তৈরি হয় এটি। এর পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে সিয়াং এবং সিবিয়া নদী।
২০২৬ সালের গোড়া থেকেই দেশের বিভিন্ন অভয়ারণ্যে রয়্যাল বেঙ্গলের উপস্থিতির প্রমাণ মিলছে। গত জানুয়ারিতে অসমের জোনাই বন রেঞ্জের বনকর্মীরা দাবি করেন, অসম-অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তের কাছে সংরক্ষিত বন কোবু চাপরিতে একটি পূর্ণবয়স্ক রয়্যাল বেঙ্গলের পায়ের ছাপ দেখতে পেয়েছেন।