(বাঁ দিক থেকে) নরেন্দ্র মোদী, ভ্লাদিমির পুতিন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করে দিয়েছেন যে, নয়াদিল্লি রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দিয়েছে। ভারত এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানায়নি। তবে এই প্রসঙ্গে মুখ খুলল ভ্লাদিমির পুতিনের দেশ। বুধবার রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রকের তরফে ট্রাম্পের ঘোষণাকে কার্যত খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, রাশিয়া থেকে তেল আমদানির বিষয়ে ভারত পুরনো অবস্থান থেকে সরেনি।
সংবাদসংস্থার পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুসারে, বুধবার রুশ বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মারিয়া জ়াখারোভা বলেন, “রাশিয়ার জ্বালানি কেনার বিষয়ে ভারত তার অবস্থান বদল করেছে, আমাদের এমনটা বিশ্বাস করার কোনও কারণ নেই। ভারত রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনায় দুই দেশই উপকৃত হয় এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
রুশ বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র এই প্রসঙ্গে ট্রাম্প এবং আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়োর সমালোচনা করেন। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির মধ্যে কোনও নতুনত্ব নেই। উনি এবং আমেরিকার বিদেশসচিব রুবিয়ো নিরপেক্ষ দেশগুলিকে নির্দেশ দেওয়ার অধিকার ছিনিয়ে এনেছেন!”
ভারত-আমেরিকা অন্তর্বর্তী বাণিজ্য-সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার পরই ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, নয়াদিল্লি রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দিয়েছে। সেই কারণে তিনি ভারতীয় পণ্যের উপর আরোপিত বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করছেন! নয়াদিল্লির তরফে এই বিষয়ে সরাসরি কিছু বলা না-হলেও বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রী বলেছিলেন, “ভারত কোথা থেকে জ্বালানি আমদানি করবে আর কোথা থেকে নয়, তা নিয়ে অতীতে সরকারের তরফে বার বার অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের কাছে অগ্রাধিকার পায়।” সম্প্রতি কারও নাম না-করলেও বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, ভারত সর্বদাই তার জাতীয় স্বার্থ দেখবে। তিনি বলেন, ‘‘ভারত জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা কখনওই বিদেশি চাপের কাছে মাথা নত করে সিদ্ধান্ত নেব না।’’