Russian Oil

রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি সংক্রান্ত মার্কিন দাবি নিয়ে মুখ খুললেন জয়শঙ্কর! বোঝালেন নয়াদিল্লির নীতি

ভারত যত অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, তার অধিকাংশই রাশিয়া থেকে কম দামে কেনে। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে রাশিয়ার উপরে আর্থিক নিষেধজ্ঞা চাপায় আমেরিকা। তার পর রাশিয়া থেকে আরও কম দামে তেল কিনতে থাকে ভারত।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:০০
Jaishankar said India wedded to strategic autonomy on Russian oil

ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য-সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, নয়াদিল্লি রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দিয়েছে। সেই কারণে তিনি ভারতীয় পণ্যের উপর আরোপিত বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করছেন! তবে ভারত কি সত্যিই রাশিয়ার থেকে পুরোপুরি অপরিশোধিত তেল কেনা বন্ধ করে দিয়েছে? এ ব্যাপারে নরেন্দ্র মোদী সরকার সরাসরি কোনও মন্তব্য করেনি। আর সেই একই প্রশ্নে এ বার ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জোর দিলেন কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের উপর।

Advertisement

আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য-সমঝোতার ফলে রাশিয়ার থেকে তেল কেনা বন্ধ করা হলে, সেটা কি ভারতের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনে প্রভাব ফেলবে? নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগ দিতে জয়শঙ্কর বর্তমানে রয়েছেন জার্মানির মিউনিখে। সেখানেই তাঁকে রাশিয়ান তেল এবং ভারতের বিদেশনীতি সম্পর্কিত প্রশ্ন করা হয়। জয়শঙ্কর এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘আমরা কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের প্রতি পুরোপুরি অঙ্গীকারবদ্ধ। কারণ, এটা আমাদের ইতিহাস এবং বিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত। এটি দেশের রাজনৈতিক বিভাজন ছাপিয়ে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক।’’

জয়শঙ্কর বুঝিয়ে দেন, ভারত সর্বদাই তার জাতীয় স্বার্থ দেখবে। ভারতের বিদেশমন্ত্রীর কথায়, ‘‘ভারত জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা কখনওই বিদেশি চাপের কাছে মাথা নত করে সিদ্ধান্ত নেব না।’’ রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ নিয়ে ট্রাম্পের দাবিতে ভারত প্রথম থেকেই দাবি করে আসছে যে, জাতীয় স্বার্থই ভারতের বাণিজ্যনীতির প্রধান নির্ধারক। তেল কেনার ক্ষেত্রে একাধিক উৎস বজায় রাখা হবে। কোনও একটি দেশের কাছ থেকে তেল কেনার বাধ্যবাধকতা নেই নয়াদিল্লির। মিউনিখে আরও এক বার সেই ধ্বনিই প্রতিধ্বনি হল জয়শঙ্করের কণ্ঠে।

রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কি ভারত কমাবে বা বন্ধ করবে? সেই প্রশ্নের উত্তরে জয়শঙ্কর বলেন, ‘‘জ্বালানির বাজার কঠিন।’’ তবে তেল কেনার বিষয়টি ভারতীয় সংস্থাগুলির দিকে ঠেললেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘তেল সংস্থাগুলি তাদের বাণিজ্যিক লাভ-ক্ষতি বিচার করে সিদ্ধান্ত নেবে।’’

ভারত যত অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, তার অধিকাংশই রাশিয়া থেকে কম দামে কেনে। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে রাশিয়ার উপরে আর্থিক নিষেধজ্ঞা চাপায় আমেরিকা। তার পর রাশিয়া থেকে আরও কম দামে তেল কিনতে থাকে ভারত। তবে ট্রাম্প দ্বিতীয় বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই রাশিয়ার থেকে তেল কেনা বন্ধ করা নিয়ে ভারতের উপর ‘চাপ’ সৃষ্টি করতে থাকেন। এমনকি, শাস্তিমূলক শুল্কও চাপান। যদি দু’দেশের বাণিজ্য-সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার পরে সেই শুল্ক প্রত্যাহার করে নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। দাবি, রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করাতেই এই সিদ্ধান্ত। তেল কেনার ব্যাপারে ভারতের স্বাধীনতা রয়েছে বলে মনে করে রুশ প্রশাসন। প্রসঙ্গত, আমেরিকা-ভারত বাণিজ্য-সমঝোতার ঘোষণা এবং রুশ তেল নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের দাবির পর পরই মস্কো নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছিল।

Advertisement
আরও পড়ুন