শমীক ভট্টাচার্য। —ফাইল চিত্র।
কেন্দ্রীয় প্রকল্পের রূপায়ণে রাজ্য সরকারের অনীহা সংক্রান্ত অভিযোগ ঘিরে আবার বিজেপি বনাম তৃণমূল বাদানুবাদ হল সংসদে। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের একটি প্রশ্নের উত্তর দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জয়ন্ত চৌধরি। জয়ন্তের উত্তর শেষ হওয়ার আগেই হইচই শুরু হল বিরোধী বেঞ্চ থেকে। কথা না-থামিয়ে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সাংসদদের পরামর্শ দিলেন, কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি রাজ্যে চালু করার জন্য রাজ্য সরকারকে বলতে।
বুধবার রাজ্যসভায় শমীকের প্রশ্ন ছিল ‘বিদ্যাঞ্জলি’ প্রকল্প নিয়ে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রকল্পে ব্যক্তিগত, সামাজিক তথা বেসরকারি অংশীদারির ভিত্তিতে সরকারি বা সরকার পোষিত স্কুলগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের ‘বিদ্যাঞ্জলি’ পোর্টালে ‘স্বেচ্ছাসেবক’ হিসাবে নিজেকে নথিভুক্ত করে কোনও স্কুলের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী বা সমাজের নানা ক্ষেত্রের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিরা স্কুলের উন্নয়নে বা পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যকলাপে স্কুল কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করতে পারেন। সামাজিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলিও ওই পোর্টালের মাধ্যমে নিবন্ধন করে বিভিন্ন স্কুলের উন্নয়নে কাজ শুরু করেছে। কেউ অর্থ জুগিয়ে কোনও স্কুলে স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ বা গ্রন্থাহারের ব্যবস্থা করেছেন। কেউ পড়ুয়াদের জন্য খেলার মাঠের ব্যবস্থা করেছেন। কেউ পঠনপাঠন সহযোগী সরঞ্জামের ব্যবস্থা করেছেন। কেউ নিজেদের পেশাগত অভিজ্ঞতা বা কোনও উৎকৃষ্ট পারদর্শিতা কাজে লাগিয়ে ছাত্রছাত্রীদের পাঠ্যক্রম বহির্ভূত সাংস্কৃতিক বা সৃষ্টিশীল কাজে সহায়তা করেছেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্পে শামিল হওয়া স্কুলের সংখ্যা নগণ্য বলে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বুধবার সংসদে জানিয়েছেন।
শমীক শিক্ষা মন্ত্রকের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, ‘বিদ্যাঞ্জলি’ প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গের অংশীদারি কতটা? প্রশ্নের জবাব দিতে উঠে জয়ন্ত প্রথমেই বলেন, ‘‘আমি মাননীয় সাংসদের ভাবাবেগের সঙ্গে একমত।’’ তার পরে বলেন, ‘‘দুর্ভাগ্যজনক ভাবে পশ্চিমবঙ্গ এই প্রকল্পকে পুরোপুরি পরিহার করেছে। ৮২,১৫৯টি সরকারি স্কুলের মধ্যে মাত্র ৫৫টি স্কুল এই প্রকল্পের আওতায় এসেছে।’’ রাজ্য সরকার এই প্রকল্পে অনিচ্ছুক হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ‘স্বেচ্ছাসেবক’-এর সংখ্যাও নামমাত্র বলে জয়ন্ত জানান। তার পরে বলেন, ‘‘সারা দেশে দু’কোটির বেশি ছাত্রছাত্রী এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছে। সঙ্কুচিত রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে পশ্চিমবঙ্গের ছেলেমেয়েরা সেই সুবিধা পাবেন না, এটা মানা যায় না।’’
জয়ন্তের মন্তব্য শুনে রাজ্যসভায় হাজির তৃণমূল সাংসদরা হইচই শুরু করে দেন। চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণণ নির্দেশ দেন, মন্ত্রীর বক্তব্য ছাড়া আর কারও কথা রেকর্ডে যাবে না। জয়ন্ত অবশ্য হইচইয়ে বক্তব্য থামাননি। তিনি বরং তৃণমূলের উদ্দেশে বলেন, ‘‘আমি সাংসদদেরও অনুরোধ করছি, আপনাদের সরকারকে বলুন এই প্রকল্পের অংশ হতে।’’