Twisha Sharma Mysterious Death

ত্বিশার মৃত্যুরহস্য: এফআইআর কেন দেরিতে, স্বামীই বা লুকিয়ে ছিলেন কেন! প্রভাব খাটানোরও চেষ্টা হয়েছিল কি? উত্তর অধরাই

স্ত্রীর মৃত্যুর পর আচমকাই ‘উধাও’ হয়ে যান সমর্থ। তাঁর নামে পুলিশ লুকআউট নোটিস জারি করে। এমনকি তাঁর সন্ধান দিতে পারলে নগদ পুরস্কারের কথাও ঘোষণা করে। পরে আত্মসমর্পণ করেন ত্বিশার স্বামী।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৫ মে ২০২৬ ১৫:৩৬
স্বামী সমর্থ সিংহের সঙ্গে ত্বিশা শর্মা। তাঁর মৃত্যুরহস্যের তদন্তে ইতিমধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন সমর্থ।

স্বামী সমর্থ সিংহের সঙ্গে ত্বিশা শর্মা। তাঁর মৃত্যুরহস্যের তদন্তে ইতিমধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন সমর্থ। —ফাইল চিত্র।

ত্বিশা শর্মার মৃত্যুরহস্যের তদন্তভার গ্রহণ করতে ইতিমধ্যে ভোপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে সিবিআই। সুপ্রিম কোর্টও সোমবার নির্দেশ দিয়েছে, স্বচ্ছ ভাবে তদন্ত করতে হবে। কিন্তু বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরাই রয়ে গিয়েছে। রবিবার ভোপাল এমসে ত্বিশার দেহের দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত হয়েছে। তার রিপোর্টে ওই অমীমাংসিত প্রশ্নগুলির কিছুটা সমাধান হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisement

গত ১২ মে রাতে ভোপালে শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছিল ত্বিশার ঝুলন্ত দেহ। কিন্তু গলায় ফাঁস দেওয়ার জন্য যে বেল্টটি ব্যবহার হয়েছিল, সেটি প্রথম ময়নাতদন্তের সময়ে চিকিৎসকদের কাছে পৌঁছোয়নি বলে অভিযোগ। সাধারণত ময়নাতদন্তের সময়ে তদন্তকারী আধিকারিকেরই তা নিয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তা হয়নি। প্রথম ময়নাতদন্তের পরে এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। যা থেকে তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট ত্বিশার দেহের দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পরে এ নিয়ে বিতর্ক আরও বৃদ্ধি পায়।

ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ কতটা সুরক্ষিত ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পরিবারের অভিযোগ, প্রায় দু’দিন ঘটনাস্থলে শ্বশুরবাড়ির সদস্যদেরই অবাধ যাতায়াত ছিল। পুলিশ যদি আগেই ডিভিআর বাজেয়াপ্ত করে থাকে, তবে ওই বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ কী ভাবে প্রকাশ্যে এল, তা নিয়েও প্রশ্ন পরিবারের। অন্য দিকে, নিহতের শাশুড়ি তথা অবসরপ্রাপ্ত বিচারক গিরিবালা সিংহ দাবি করেছেন, সিসিটিভিতে প্রযুক্তিগত কিছু ত্রুটি ছিল। সেই কারণে তাতে ভুল সময় দেখানো হচ্ছিল। তাঁর এই দাবি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নিয়ে আরও প্রশ্ন তুলেছে। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই বাড়িতে আটটি সিসি ক্যামেরা ছিল। সিবিআই তদন্তে এই সিসিটিভি-সংক্রান্ত ধোঁয়াশা কাটে কি না, সে দিকে নজর থাকবে।

ত্বিশার মৃত্যুর পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আসছে পরিবার। কিন্তু শুরুর দিকে শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর রুজু হয়নি। পরিবারের তরফে ধারাবাহিক অভিযোগের পর শেষে এফআইআর রুজু হয় ত্বিশার স্বামী আইনজীবী সমর্থ সিংহ এবং শাশুড়ি গিরিবালার বিরুদ্ধে। এফআইআর রুজু হতে কেন দেরি হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে পরিবার। এর ফলে শ্বশুরবাড়ির লোকেদের কাছে তথ্যপ্রমাণ লোপাট এবং ‘প্রভাবশালী’ হওয়ার সুবিধা নেওয়ার সুযোগ ছিল বলে অভিযোগ পরিবারের। যদিও পুলিশের দাবি, প্রোটোকল অনুযায়ীই সব পদক্ষেপ করা হয়েছে।

ত্বিশার মৃত্যুর পরে হোয়াট্‌সঅ্যাপে বন্ধুর সঙ্গে তাঁর কিছু চ্যাটও প্রকাশ্যে আসে (যার সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। ওই চ্যাটে এমন কিছু বিষয় উঠে এসেছে, যা ইঙ্গিত দিয়েছে তাঁর দাম্পত্যজীবন মসৃণ ছিল না। এ ছাড়া স্ত্রীর মৃত্যুর পর আচমকাই কেন ‘উধাও’ হয়ে গিয়েছিলেন সমর্থ, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর নামে পুলিশ লুকআউট নোটিস জারি করেছিল। এমনকি তাঁর সন্ধান দিতে পারলে নগদ পুরস্কারের কথাও ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। সমর্থ কেন আত্মগোপন করেছিলেন, তা এ বার তদন্ত করে দেখবেন সিবিআই আধিকারিকেরা।

Advertisement
আরও পড়ুন