Pune Businessman Son Death

বসে পড়লেই বুঝবে পিছন দিক থেকে ধাক্কা দিতে হবে কেতনকে! প্রেমিককে ইঙ্গিত সিয়ার, কোন কৌশলে হত্যা, খোঁজ ইন্টারনেটে

পুণের ডেপুটি পুলিশ সুপার গজানন তোম্পে বলেন, ‘‘ সিয়া এবং চেতন দু’জনে মিলে ঠিক করেন কখন, কী ভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে কেতনকে ধাক্কা মারা হবে। সেই মতো জায়গাও বেছে রেখেছিলেন তাঁরা।’’

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬ ১৫:৪৫
গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

কেতনের সঙ্গে কথা বলতে বলতে তিনি যদি বসে পড়েন, তখনই বুঝতে হবে, এ বার কেতন অগ্রবালকে পিছন থেকে ধাক্কা মেরে ফেলার সময় হয়েছে। কেতনকে কখন ধাক্কা মারতে হবে, তার একটা সঙ্কেত ঠিক করেছিলেন সিয়া গয়াল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধরি দু’জনে মিলে। পুণের ডেপুটি পুলিশ সুপার গজানন তোম্পে এমনই জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘দু’জনে মিলে ঠিক করেন কখন, কী ভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে কেতনকে ধাক্কা মারা হবে।’’

Advertisement

অভিযুক্তদের জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, পরিকল্পনামাফিক কেতনকে পাহাড়ের ধারে নিয়ে যান সিয়া। দু’জনে কথা বলছিলেন। বেশ কয়েক হাত দূরে ছিলেন চেতনও। তবে তিনি এমন ভাবে ঘটনাস্থলে ছিলেন, যাতে কেতনের কোনও সন্দেহ না হয়। একজন পর্যটকের মতোই সেখানে গিয়েছিলেন চেতন। কথা বলার সময় সিয়াই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন দূরে দাঁড়িয়ে থাকা চেতনকে। পরিকল্পনামতো সিয়া দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থা থেকে বসে পড়েন। ঠিক তখনই বিদ্যুৎবেগে পিছন থেকে আসেন চেতন এবং ধাক্কা মেরে কেতনকে ৪০০ ফুট গভীর খাদে ফেলে দেন। তার পরই ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যান।

লোনাভালা গ্রামীণ পুলিশ ইনস্পেক্টর দীনেশ তায়াড়ে টাইম্‌স অফ ইন্ডিয়া-কে বলেন, ‘‘আমরা জানতে পেরেছি, চেতনকে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সিয়া। দুর্গের একেবারে উপরের দিকে ১০ মিনিট ছিলেন চেতন। সেখানে ওঠা এবং নামার সময় নিয়েছিলেন ৫০ মিনিট। দুর্গের এক নিরাপত্তারক্ষীর দাবি, চেতনকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন কিসের জন্য এসেছেন। তখন তিনি জানান, শরীরচর্চার জন্য। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তেরা আগে ঘটনাস্থল রেকি করে গিয়েছিলেন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, কেতনকে খুনের জন্য ভিঞ্চু কাটা নামে জায়গাটিকে বেছেছিলেন সিয়ারা। এখান থেকে পাভনা বাঁধ দেখা যায়। এই জায়গাটি তুলনামূলক ফাঁকাই থাকে। সপ্তাহান্তে পর্যটকদের ভিড় থাকলেও এ দিকটায় কেউ বিশেষ আসেন না। খুনের জন্য সপ্তাহের মাঝের দিনকে বেছে নিয়েছিলেন সিয়া এবং চেতন। ইনস্পেক্টর তায়াড়ে বলেন, ‘‘দুর্গের অন্যান্য অংশের তুলনায় ভিঞ্চু কাটা নামে জায়গাটি নির্জন থাকে। আমাদের সন্দেহ, সিয়া এবং চেতন আগে ওই জায়গাটি দেখে গিয়েছিলেন।’’

ইনস্পেক্টর তায়াড়ে জানিয়েছেন, সিয়ার কথার মধ্যে বেশ কিছু অসঙ্গতি লক্ষ করা গিয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘প্রথমে সিয়া বলেছিলেন ছবি তুলতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে গিয়েছেন কেতন। পরে বয়ান বদলে দাবি করেন, তাঁকে জলের বোতল দিতে গিয়ে পড়ে যান কেতন। তবে কেতনের মোবাইলে আমরা কোনও ছবি পাইনি ওই দিনের। আর এখানেই সন্দেহ আরও গাঢ় হয়েছে।’’

সূত্রের খবর, কেতনের দেহ যখন বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছিল, সেই সময় সিয়াও সেখানে আসেন। কেতনের বোনের দাবি, সবাই যখন শোকগ্রস্ত, অদ্ভুত ভাবে সিয়ার মধ্যে কোনও রকম শোকতাপ লক্ষ করা যায়নি। কী ভাবে ঘটল, কেন এ রকম হল, এ রকম কয়েকটি সাধারণ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেছিলেন কেতনের বোন। কিন্তু সিয়া সেই প্রশ্নের কোনও জবাব দেননি। সেখান থেকেই কেতনের বোনের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে, এটি নিছক কোনও দুর্ঘটনা নয়। নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ আছে। তার পরই পুলিশকে এই ঘটনার গভীর ভাবে তদন্ত করার আর্জি জানায় কেতনের পরিবার। প্রসঙ্গত, গত ১৮ জুন লোনাভালায় লোহাগড় দুর্গ থেকে খাদে পড়ে মৃত্যু হয় কেতনের। প্রাথমিক ভাবে এটিকে দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও তদন্তে উঠে আসে, এটি পরিকল্পিত খুন হতে পারে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ, কেতনকে কী ভাবে খুন করা যায়, তার কৌশলও ইন্টারনেটে সার্চ করেছিলেন সিয়া এবং চেতন। কোন কৌশলে হত্যা করলে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে মনে হতে পারে, তা-ও খুঁজে দেখেছিলেন অভিযুক্তেরা। সিয়া এবং চেতনের ফোন ঘেঁটে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Advertisement
আরও পড়ুন