— প্রতীকী চিত্র।
সঠিক ভোটারকে চিহ্নিত করতে আঙুলের ছাপ বা চোখের মণি স্ক্যান করানোর ব্যবস্থা করা হোক— এই আর্জিতে এ বার মামলা দায়ের হল সুপ্রিম কোর্টে। মামলাকারীর আর্জি, লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা চালু করুক কমিশন। প্রত্যেক ভোটগ্রহণকেন্দ্রে ভোটারদের আঙুলের ছাপ বা চোখের মণি স্ক্যান করানোর ব্যবস্থা চালু হলে ‘ভূতুড়ে’ বা ভুয়ো ভোটার ঠেকানো যাবে বলে মনে করছেন তিনি।
সোমবার আইনজীবী অশ্বিনীকুমার উপাধ্যায় এই জনস্বার্থ মামলাটি করেন। তিনি প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ এই মামলাটি শুনতে রাজি হয়েছে। তবে একই সঙ্গে এ-ও স্পষ্ট করে দিয়েছে, বর্তমানে যে রাজ্যগুলিতে বিধানসভা ভোট রয়েছে, তার প্রেক্ষিতে এই মামলা গৃহীত হচ্ছে না। পরবর্তী লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটগুলিতে এই ব্যবস্থা চালু করা যায় কি না, তা বিবেচনা করে দেখা হবে।
প্রধান বিচারপতি কান্তের বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, বেশ কয়েকটি রাজ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে। এই পর্যায়ে সেখানে এই ধরনের নতুন ব্যবস্থা চালু করা বাস্তবসম্মত নয়। মামলাকারীও জানান, তিনি এখনই এই ব্যবস্থাটি চালু করার দাবি জানাচ্ছেন না। তিনি চাইছেন আদালত যাতে বিষয়টি যথাযথ ভাবে খতিয়ে দেখে। মামলার প্রেক্ষিতে সব পক্ষকে নোটিস পাঠানোর আবেদনও জানান তিনি।
মামলাকারী আইনজীবীর বক্তব্য, “ঘুষ, প্রভাব খাটানো, পরিচয় ভাঁড়ানো, দু’বার করে ভোট দেওয়া বা ভূতুড়ে ভোটদান— এ সবের ফলে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং সততা নষ্ট হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ নাগরিকদের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।” আবেদনের প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্র এবং বেশ কিছু রাজ্য-সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নোটিস পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের মন্তব্য, “পরবর্তী লোকসভা নির্বাচন এবং বিধানসভা নির্বাচনগুলির আগে এই ধরনের পদক্ষেপ করা উচিত কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাই নোটিস জারি করা হল।”