Pune Porsche Accident

সন্তানের ফুর্তির জন্য টাকা, গাড়ির চাবি দেওয়া মেনে নেওয়া যায় না! পুণের সেই পোর্শে-কাণ্ডে বাবা-মায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, জামিন তিন জনকে

২০২৪ সালের ১৯ মে পুণেতে একটি পোর্শে গাড়ির ধাক্কায় দু’জনের মৃত্যু হয়। গাড়িটি চালাচ্ছিল ১৭ বছরের কিশোর। সে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিল বলে অভিযোগ। এমনকি, তদন্তে উঠে এসেছে, ওই গাড়ির রেজিস্ট্রেশন করানো ছিল না আদৌ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:০৭
২০২৪ সালে পুণেতে এই পোর্শে গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হয় দু’জনের।

২০২৪ সালে পুণেতে এই পোর্শে গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হয় দু’জনের। —ফাইল চিত্র।

পুণের সেই পোর্শে-কাণ্ডে এ বার তিন অভিযুক্তকে জামিনের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। মূল অভিযুক্ত কিশোরকে বাঁচাতে রক্তের নমুনা বদলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল ওই তিন জনের বিরুদ্ধে। প্রায় দেড় বছর আগের ওই মামলায় সোমবার তাঁদের জামিনের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতি বিভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঞার বেঞ্চ। অভিযুক্ত কিশোরের বাবা-মা কেন নিজেদের সন্তানকে সামলে রাখতে পারেননি, তা নিয়েও প্রশ্ন আদালতের।

Advertisement

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, “মাদকাসক্তির বিষয়টি আলাদা। কিন্তু ছোট সন্তানের হাতে গাড়ির চাবি দিয়ে দেওয়া, ফুর্তি করার জন্য টাকা দেওয়া— এগুলি কখনওই গ্রহণযোগ্য নয়।” দুই বিচারপতির বেঞ্চের আরও পর্যবেক্ষণ, বাবা-মা নিজেদের সন্তানকে সামলে রাখতে পারেন না। তাই এই ধরনের ঘটনা ঘটে।

২০২৪ সালের ১৯ মে পুণেতে একটি পোর্শে গাড়ির ধাক্কায় দু’জনের মৃত্যু হয়। গাড়িটি চালাচ্ছিল ১৭ বছরের কিশোর। সে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিল বলে অভিযোগ। এমনকি, তদন্তে উঠে এসেছে, ওই গাড়ির রেজিস্ট্রেশন করানো ছিল না আদৌ। ঘাতক গাড়িটিতে কোনও নম্বর প্লেটও ছিল না।

দুর্ঘটনার পরে অভিযুক্তকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে তার শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়। ফরেন্সিক বিভাগের রিপোর্টে দেখা যায়, কিশোরের শরীরে মদ খাওয়ার বা নেশা করার কোনও চিহ্ন নেই। কিন্তু এই রিপোর্টে সন্দেহ হয় পুলিশের। পরে আবার রক্ত পরীক্ষা করানো হয় অভিযুক্তের। সেই রিপোর্টেই ধরা পড়ে, কিশোর মদ্যপান করেছিল। এর পরেই ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থা করে পুলিশ। সেখান থেকে জানা যায়, প্রথম এবং দ্বিতীয় রিপোর্টটিতে আলাদা আলাদা রক্তের নমুনা ব্যবহৃত হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে ঘটনার তদন্তে উঠে আসে তিন লক্ষ টাকার বিনিময়ে রিপোর্ট বদলে ফেলা হয়েছিল। ওই রিপোর্ট বদলের অভিযোগে গ্রেফতার হন তিন জন। সোমবার তাঁদের জামিনের নির্দেশ দেয় আদালত।

Advertisement
আরও পড়ুন