Romeo-Juliet Clause in POCSO

বয়ঃসন্ধির প্রেমে সম্মতিতে যৌন সম্পর্কে শাস্তি নয়! কেন্দ্রকে পকসো আইনে ‘রোমিও-জুলিয়েট’ ধারা নিয়ে বিবেচনা করতে বলল সুপ্রিম কোর্ট

নাবালকদের অহেতুক শাস্তি থেকে বাঁচাতে এবং পকসো আইনের অপব্যবহার রুখতে পকসো আইনে ‘রোমিও-জুলিয়েট’ ধারা সংযোজনের পক্ষে সায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রকে বিষয়টি বিবেচনা করে দেখতে বলা হয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৩:০৪
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

কিশোর-কিশোরীর প্রেমে পারস্পরিক সম্মতিতে যৌন সম্পর্ক ‘অপরাধ’ নয়। অথচ মেয়ের পরিবার একবার পুলিশে অভিযোগ করলেই পকসো আইনের জালে দিনের পর দিন জেল খাটতে হচ্ছে বয়ঃসন্ধিতে পা দেওয়া কিশোরদের। এ বার এ ধরনের ঘটনা রুখতে কেন্দ্রকে পকসো আইনে ‘রোমিও-জুলিয়েট’ ধারা সংযোজনের কথা বিবেচনা করতে বলল সুপ্রিম কোর্ট।

Advertisement

সমপ্রতি সুপ্রিম কোর্টে একটি পকসো মামলার শুনানিতে এ কথা জানিয়েছে বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি এন কোটেশ্বর সিংহের বেঞ্চ। পারস্পরিক সম্মতিতে কোনও কিশোর-কিশোরী সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লে যাতে তাদের ফৌজদারি বিচারের আওতায় না আনা হয়, সে জন্য কেন্দ্রকে পকসো আইনে নতুন একটি ধারা সংযোজনের কথা বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।

রোমিও-জুলিয়েট নামে এই ধারা আনার পক্ষে শীর্ষ আদালতের যুক্তি, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, সম্পর্কটি দু’জনের সম্মতিতে গড়ে উঠলেও কোনও এক পক্ষ নাবালক হওয়ায় পকসো আইনে মামলা হচ্ছে। ফলে দিনের পর দিন জেলে পচতে হচ্ছে অন্য জনকে। শুধু তা-ই নয়, এর জেরে বয়ঃসন্ধিকালীন বয়সের সম্পর্কগুলিকেও ‘সংবিধিবদ্ধ ধর্ষণ’ হিসাবে গণ্য করা হচ্ছে। কখনও কখনও আবার দেখা যাচ্ছে, অভিযোগকারী পরিবার ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে পকসো আইনকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করছে। এ সব রুখতেই পকসো আইনে ‘রোমিও-জুলিয়েট’ ধারার পক্ষে সায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

তবে কিশোর-কিশোরীর সম্পর্ক সংক্রান্ত মামলাগুলির ক্ষেত্রে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আদালতকে কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে বলেও জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সম্পর্কের প্রকৃতি ও গভীরতা, উভয় পক্ষের উদ্দেশ্য, সম্পর্কটি আদৌ পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে কি না— সে সব খতিয়ে দেখতে হবে। ‘রোমিও-জুলিয়েট’ ধারা সংক্রান্ত এই রায়ের অনুলিপি কেন্দ্রীয় আইনসচিবের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। নাবালকদের অহেতুক শাস্তি থেকে বাঁচাতে এবং পকসো আইনের অপব্যবহার রুখতে কেন্দ্রকে দ্রুত বিষয়টি বিবেচনা করে দেখতে বলা হয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন