CAA Case Hearing

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বৈধতা যাচাই করবে সুপ্রিম কোর্ট, বাতিলের আর্জির শুনানি হবে শীর্ষ আদালতে

সিএএ অনুযায়ী, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্শি ও খ্রিস্টান শরণার্থীরা ভারতের নাগরিকত্ব নিতে পারবেন। তবে তাঁদের ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বা তার আগে ভারতে আসতে হবে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৪৩
Supreme Court to commence hearing on a batch of pleas challenging the legality of the  Citizenship Amendment Act 2019

সুপ্রিম কোর্ট। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

নরেন্দ্র মোদী সরকারের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ২০১৯-এর বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা একাধিক আবেদনের শুনানিতে সম্মত হল সুপ্রিম কোর্ট। সংবাদসংস্থা এএনআই জানিয়েছে, আবেদনগুলি বিবেচনার পরে বিচারপক্রিয়া এগিয়ে নিতে চাইছে শীর্ষ আদালত। ‌সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, ৫ মে থেকে শুরু হবে শুনানি।

Advertisement

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সংসদে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ হওয়ার পর দেশ জুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। সে বছরের ১৮ ডিসেম্বর সিএএ-র বিরুদ্ধে আর্জির প্রথম শুনানি শুরু হয়েছিল শীর্ষ আদালতে। তার পরেও অবশ্য ২০২০-র ১ জানুয়ারি বিলটি রাষ্ট্রপতির সম্মতিতে আইনে পরিণত হয়েছিল। সিএএ-র বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলি মামলা করেছে। ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউেমএল) কংগ্রেস নেতা ও সাংসদ জয়রাম রমেশ, তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র, এআইএমআইএম নেতা ও হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েইসি, কংগ্রেস নেতা দেবব্রত শইকিয়া, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা রিহাই মঞ্চ, অসম অ্যাডভোকেটস অ্যাসোসিয়েশন সুপ্রিম কোর্টে আর্জি দাখিল করে আইনটি বাতিলের দাবি তুলেছেন।

রাজ্য সরকারগুলির মধ্যে কেরল প্রথম সুপ্রিম কোর্টে এই আইনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। সিএএ-তে বলা হয়েছে, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্শি ও খ্রিস্টান শরণার্থীরা ভারতের নাগরিকত্ব নিতে পারবেন। তবে তাঁদের ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বা তার আগে ভারতে আসতে হবে। তবে পাকিস্তান-বাংলাদেশে নির্যাতিত আহমদিয়া মুসলিম (সংশ্লিষ্ট দেশগুলিতে যাঁদের ‘কাদিয়ানি’ নামে অবমাননাকর শব্দে চিহ্নিত করা হয়) কিংবা মায়ানমার থেকে চলে আসা রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীদের কথা নেই সিএএ-তে। এমনকি নেই বৌদ্ধ রাষ্ট্র শ্রীলঙ্কায় নির্যাতিত হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী তামিলদের নাগরিকত্ব দানের প্রসঙ্গও!

অ-মুসলিমদের আলাদা ভাবে নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন মামলাকারীরা। এ ছাড়া, জীবনযাপনের অধিকার, ধর্ম কিংবা জাতি, লিঙ্গ, জন্মস্থানের ভিত্তিতে বৈষম্য না করার সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, আইনটি নাগরিকদের স্বাধীনতার অধিকারকেও খর্ব করছে। ফলে মোদী সরকারের পাশ করা এই আইন নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকারকে হরণ করছে বলেই অভিযোগ এনেছেন তাঁরা। শীর্ষ আদালত সিএএ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে আগেও নোটিস জারি করেছিল। ২০২০ সালের মার্চে কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে বলে, সিএএ কোনও নাগরিকের মৌলিক অধিকারকে হরণ করছে না। এবং সাংবিধানিক নৈতিকতা লঙ্ঘনেরও প্রশ্ন নেই। ফলে আইনটি বৈধ। বিরোধীদের তরফে সিএএ কার্যকরের উপর স্থগিতাদেশ চাওয়া হলেও ২০২২ সালে সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ইউইউ ললিতের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ তা খারিজ করে দিয়েছিল।

Advertisement
আরও পড়ুন