মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফাইল চিত্র।
কলকাতা ও নয়াদিল্লি, ১৪ জুন: এর আগে দিল্লিতে এসে প্রথমে বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে, তার পরে শতাব্দী রায়ের বাড়ি গিয়ে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঠিক ছিল, রবিবার দিল্লিতে পৌঁছে শুভেন্দু ফের তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাতিল হয়ে গেল।
মুখ্যমন্ত্রীর দফতর সূত্রের বক্তব্য, রাজ্যে আগামী দু’দিন মুখ্যমন্ত্রীর কিছু সরকারি কর্মসূচি রয়েছে। আপাতত তিনি দিল্লি সফর স্থগিত রেখেছেন। পরিস্থিতির প্রয়োজন হলে তবেই যাবেন। কিন্তু বিজেপির একটি সূত্রের দাবি, রাজনৈতিক জটিলতা এড়াতেই কৌশলগত কারণে মুখ্যমন্ত্রী এ বার বিদ্রোহী তৃণমূলের আলোচনায় হাজির থাকা এড়িয়ে গিয়েছেন। তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদেরা তাঁদের সংসদীয় ও দলীয় নেতৃত্বের প্রতি প্রশ্ন তুলে যা পদক্ষেপ করছেন সেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কেন উপস্থিত থাকছেন, এ নিয়ে আরএসএস এবং বিজেপির একাংশে প্রশ্ন রয়েছে। এনডিএ-কে সমর্থনে আগ্রহী তৃণমূলের বিদ্রোহী ব্লকে এমন দু’-এক জন সাংসদ নাম লিখিয়েছেন, যাঁদের প্রতি আরএসএস ও বিজেপির ওই অংশের মনোভাব সদয় নয়। আরএসএস-বিজেপির ওই অংশের মতে, শাসক দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই বিষয়টি তত্ত্বাবধান করতেই পারেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী দলের বিদ্রোহী সাংসদদের মাঝে বার বার উপস্থিত থাকলে ভুল বার্তা যায়। তৃণমূলের দু’-এক জন বিদ্রোহী সাংসদ যে ভাবে প্রকাশ্যে এবং খোলাখুলি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর নেতৃত্ব মেনে এগোনোর কথা বলে দিয়েছেন, তাতে অস্বস্তি আরও বেড়েছে। আবার মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি আশ্বাস ছাড়া দু’-এক জন সাংসদ এগোতেও চাইছেন না। সূত্রের খবর, এ বিষয়ে দলের মধ্যে বিভ্রান্তি মেটাতে বিজেপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল রবিবারই কলকাতায় গিয়ে দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ভূপেন্দ্র যাদব এবং সুনীল বনসলদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর যোগাযোগ থাকছে, তবে তিনি কৌশলী পদক্ষেপ করতে চাইছেন বলে সূত্রের ইঙ্গিত।রাজ্য বিজেপির এক শীর্ষ নেতার বক্তব্য, “এই বিষয়ে আমাদের কোনও ভূমিকা নেই, বক্তব্যও কিছু নেই। গোটা বিষয়টিই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজরদারিতে হচ্ছে।”
রবিবার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের বৈঠক বসেছিল। বিজেপি সূত্রের খবর, সেখানে তৃণমূলের মধ্যে দু’টি ভাগ দেখা যায়। একটি গোষ্ঠী পুরোপুরি তৃণমূলের সংস্রব, নাম, প্রতীক ত্যাগ করতে চেয়েছিল। অন্য গোষ্ঠী চেয়েছিল, নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করতে। শেষে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে তাঁদের অন্য দলে মিশে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আপাতত তাঁরা এনডিএ-কে সমর্থন করবেন। ভবিষ্যতে এই বিদ্রোহী সাংসদদের ভাগ্য কী হবে, তা ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনের সময় ঠিক হবে, দাবি বিজেপি সূত্রের।