Tripura ADC Election

ত্রিপুরায় বিজেপি-কে হারিয়েই শাহকে ‘বার্তা’ প্রদ্যোতের, চুক্তি কার্যকর না-হলে সরকার থেকে সরার হুঙ্কার, তোপ মানিককেও

২০২৩ সালের বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পরে ত্রিপুরায় শাসকের আসনে প্রত্যাবর্তন হয়েছিল বিজেপির। সিপিএম-কে তৃতীয় স্থানে সরিয়ে প্রধান বিরোধী দল হয়ে উঠেছিল মথা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:৫৭
Tipra Motha chief Pradyot Kishor Manikya Debbarma gives a message To Amit Shah after massive victory in Tripura ADC Elections

(বাঁ দিক থেকে) অমিত শাহ, প্রদ্যোত বিক্রম মানিক্য দেববর্মা এবং মানিক সাহা। —ফাইল চিত্র।

২৮টি আসনের মধ্যে ২৪টি তাঁদের দখলে। ত্রিপুরার স্বশাসিত জেলা কাউন্সিল (এডিসি) নির্বাচনে বিজেপি-কে ধরাশায়ী করলেও এই ফলাফলকে ‘জয়’ হিসাবে দেখছেন না তিপ্রা মথা প্রধান প্রদ্যোত কিশোর মানিক্য দেববর্মা। বরং এই জয়কে কেন্দ্রীয় সরকার তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উদ্দেশে ‘বার্তা’ হিসাবেই অভিহিত করেছেন তিনি। শনিবার আনন্দবাজার ডট কম-কে প্রদ্যোত বলেন, ‘‘এটা জয় নয়। এটা বার্তা।’’

Advertisement

কী বার্তা? যে ‘চুক্তির’ ভিত্তিতে বিরোধী দল থেকে ত্রিপুরা সরকারে শামিল হয়েছিল তিপ্রা মথা, সেই চুক্তি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি বলে দাবি প্রদ্যোতের। মথা প্রধানের কথায়, ‘‘এডিসি নির্বাচনে মানুষ সেই বার্তাই দিতে চেয়েছেন।’’ ত্রিপুরা সরকারের শরিক হলেও এডিসি ভোটে বিজেপি-ই মূল প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছিল মথার। চুক্তি হওয়ার বছর দুই কাটতে চললেও তা বাস্তবায়িত না-হওয়ার ক্ষোভ ছিল জনজাতি অংশে। সেই ধিকি ধিকি আগুনে ঘি ঢেলেছিল মথাকে নিশানা করে ত্রিপুরার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার বেশ কিছু মন্তব্য। মানিকের সে সব কথা টেনে শনিবার প্রদ্যোত বলেছেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী যে সব বিবৃতি দিয়েছিলেন, মানুষ তার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে।’’

সরকারের শরিক থাকবেন, আবার বিজেপির বিরুদ্ধেও লড়াই করবেন, এটা কেমন সমীকরণ? প্রদ্যোতের জবাব, ‘‘আমরা এখন দেখব কেন্দ্রীয় সরকার কী ভূমিকা নেয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী ভূমিকা নেন। তার পর আমরা আমাদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’’ কত দিন অপেক্ষা করবেন? মথা প্রধান বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন মিটে যাওয়ার পরে, অমিত শাহের ব্যস্ততা কমলে, আমরা কথা বলব। কেন্দ্র যদি বলে, চুক্তি বাস্তবায়িত করবে, তা হলে সরকারে থাকব। না-হলে সরকার থেকে বেরিয়ে আসব।’’

২০২০ সালে পুজোর আগে কংগ্রেস ছেড়ে নতুন দল গড়েছিলেন প্রদ্যোত। নতুন দল গড়লেও তাঁর সঙ্গে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের সুসম্পর্ক ছিল। অন্তত সমন্বয় রেখে চলতেন। ২০২০ সালের পুজোর পরে বিপ্লবের বিজয় সম্মিলনীতে প্রদ্যোতের উপস্থিতি ত্রিপুরার রাজনীতিতে হইচই ফেলে দিয়েছিল। কিন্তু মানিক মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে মথা রাজ্য সরকারে বিজেপির শরিক হলেও সেই ইতিবাচক সম্পর্ক থাকেনি প্রদ্যোতের সঙ্গে। এডিসি ভোটের আগেও মানিকের বিভিন্ন বক্তৃতায় মথার সম্পর্কে তিক্ততা প্রকাশ্যে এসেছিল। শুক্রবার এডিসিতে জয়ের পরে কি বিপ্লবের সঙ্গে কথা হয়েছে প্রদ্যোতের? জবাবে তিনি বলেন, ‘‘আমার সকলের সঙ্গেই কথা হয়। অনেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গেও কথা হয়। ব্যক্তিগত স্তরে কার সঙ্গে কী কথা হয়েছে, তা বলব না।’’

পাঁচ বছর আগে যখন ত্রিপুরায় এডিসি নির্বাচন হয়েছিল, তখন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বিপ্লব। সেই ভোটে ১৩টি আসনে লড়াই করে ৯টি আসন জিতেছিল বিজেপি। তখন অবশ্য মথা বিজেপির শরিক ছিল না। সেই পর্বে বিজেপির শরিক ছিল আইপিএফটি। তিনটি আসনে নির্দল প্রার্থীরা জিতেছিলেন বিজেপির সমর্থনে। মথা একক ভাবে জিতেছিল ১৬টি আসন। এডিসির ক্ষমতা দখলের জাদুসংখ্যা ১৫। ফলে পাঁচ বছর আগে যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছিল, এ বার তা-ও ধরে রাখতে পারেনি বিজেপি। ২৮টি আসনে লড়ে জয় পেয়েছে মাত্র চারটিতে।

২০২৩ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পরে ত্রিপুরায় শাসকের আসনে প্রত্যাবর্তন হয়েছিল বিজেপির। সিপিএমকে তৃতীয় স্থানে সরিয়ে প্রধান বিরোধী দল হয়ে উঠেছিল মথা। কিন্তু মধ্য মেয়াদেই বিরোধী দল থেকে সরকারে শামিল হয় তারা। সেই জায়গায় প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পায় সিপিএম। কিন্তু সরকারের শরিক হলেও এডিসি ভোটে বিজেপি-মথার বনিবনা হয়নি। যার ফলস্বরূপ, মথার সামনে দাঁড়াতে পারেনি পদ্মশিবির। তার পরেই শাহের উদ্দেশে ‘বার্তা’ দিয়ে দিলেন প্রদ্যোত।

Advertisement
আরও পড়ুন