বাজেট অধিবেশনে সংসদে বক্তৃতা করছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং অন্য মন্ত্রী-সাংসদেরাও। ছবি: পিটিআই।
কেন্দ্রীয় বাজেটে ‘বঞ্চনা’র অভিযোগ তুলে রাজ্যসভা থেকে ওয়াক আউট (কক্ষত্যাগ) করলেন তৃণমূল সাংসদেরা। সোমবার তৃণমূল সাংসদেরা কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে ২ লক্ষ কোটি টাকা আটকে রাখারও অভিযোগ তুলেছেন। তৃণমূলনেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন দিল্লিতে রয়েছেন। এই সময় কেন্দ্রীয় ‘বঞ্চনা’র বিরুদ্ধে রাজ্যের শাসকদল আরও সুর চড়়ানোর কৌশল নিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সোমবার রাজ্যসভায় বাজেট অধিবেশন শুরু হওয়ার কিছু ক্ষণ পরেই একে একে কক্ষত্যাগ করেন তৃণমূল সাংসদেরা। এই প্রসঙ্গে রাজ্যসভায় তৃণমূলের উপ দলনেত্রী সাগরিকা ঘোষ সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে বলেন, “আজ রাজ্যসভা থেকে আমরা ওয়াক আউট করেছি। কারণ বাজেটে এক বারের জন্যও পশ্চিমবঙ্গের নাম উচ্চারণ করা হয়নি। রাজ্যের বকেয়া আটকে রাখা হয়েছে। মনরেগা (১০০ দিনের কাজ), আবাস যোজনা-সহ বিভিন্ন প্রকল্প মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রের কাছ থেকে ২ লক্ষ কোটি টাকা পায়।”
কেন্দ্রের এই ‘বিমাতৃসুলভ’ আচরণের কারণে দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের ক্ষতি হচ্ছে বলে মনে করছে তৃ়ণমূল। কেন্দ্রীয় ‘বঞ্চনা’র প্রতিবাদে রাজ্যসভা থেকে বেরিয়ে আসার পর তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর বলেন, “২০২১ সালে মানুষ বিজেপিকে পরাস্ত করেছিল। তার পর থেকেই কেন্দ্র প্রতিহিংসামূলক আচরণ করছে। ১০০ দিনের কাজের টাকা বন্ধ রাখা রাখা হয়েছে। সড়ক নির্মাণ এবং গ্রামোন্নয়নে টাকা দেওয়া হচ্ছে না।” রাজ্যের বকেয়া না-মেটানো হলে তাঁদের আন্দোলন চলবে বলে জানান মমতাবালা।
রবিবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ বাজেট পেশ করার পরেই তার সমালোচনায় সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। কেন্দ্রীয় বাজেটকে ‘মিথ্যার জঞ্জাল’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি। বলেন, “সাধারণ মানুষের জন্য কিছু নেই। সামাজিক সুরক্ষায় কিছু নেই। ওরা বাংলায় হারবে। রাজনৈতিক ভাবে কিছু করতে পারবে না। ভোট পাবে না বলেই পশ্চিমবঙ্গকে বঞ্চনা।” প্রায় একই সুরে কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে সরব হন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। কেন্দ্রীয় বাজেটকে ‘দিশাহীন, ভিত্তিহীন এবং লক্ষ্যহীন’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি।