—প্রতীকী চিত্র।
২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনেই মহিলা আসন সংরক্ষণ আইন কার্যকর করতে তাতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী বিলের খসড়ায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সিলমোহর দিল। সংসদের বাজেট অধিবেশনের মেয়াদ বাড়িয়ে আগামী ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল তিন দিনের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে। সেই অধিবেশনে মোদী সরকার এই বিল পাশ করাবে। তাই আজই মন্ত্রিসভা সেই বিলে সিলমোহর দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ একটি নিবন্ধে লিখেছেন, ‘১৬ এপ্রিল সংসদে মহিলাদের সংরক্ষণ সংক্রান্ত উদ্যোগকে কার্যকর করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে আলোচনা করা হবে এবং সেটি পাশ করা হবে।… ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে মহিলাদের সংরক্ষণের বিষয়টি কার্যকর হবে’।
সরকারি সূত্রের খবর, ২০২৩-এর সেপ্টেম্বরে মোদী সরকার যে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বা সংবিধানের ১০৬-তম সংশোধনী আইন জারি করেছিল, তাতে কিছু সংশোধন করে আগামী লোকসভা নির্বাচনেই এক-তৃতীয়াংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ করা হবে। ২০২৩-এর আইন অনুযায়ী চললে, মহিলা সংরক্ষণ ২০৩৪-এর লোকসভা ভোটে বাস্তবায়িত হত। খসড়া সংশোধনী বিল অনুযায়ী, ২০২৭-এর জনগণনার অপেক্ষা না করেই ২০১১-র জনগণনার ভিত্তিতে লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়ানো ও পুনর্বিন্যাস করা হবে। লোকসভার মোট আসন সংখ্যা ও প্রতিটি রাজ্যের লোকসভা আসন সংখ্যা ৫০ শতাংশ করে বাড়বে। ফলে ৫৪৩ আসনের লোকসভা বেড়ে লোকসভার সাংসদ সংখ্যা ৮১৬-তে পৌঁছবে। তার তিন ভাগের এক ভাগ, ২৭২টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
মহিলা সংরক্ষণকে সমর্থন করলেও মোদী সরকারের এই আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে বিরোধী শিবিরের আপত্তি রয়েছে। তার উপরে পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ুর ভোটের মুখে আদর্শ আচরণবিধি জারি থাকা সত্ত্বেও বিজেপি যে ভাবে মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে, তাতেও বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছেন। বিরোধীদের রণকৌশল ঠিক করতে ১০ এপ্রিল কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে। তার পরে কংগ্রেস অন্য বিরোধীদের সঙ্গেও বৈঠকে বসবে। কংগ্রেস এর আগে এ নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠকের দাবি তুলেছিল। প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর নিবন্ধে এ নিয়ে সকলের সমর্থন চেয়ে লিখেছেন, ‘দলমত নির্বিশেষে প্রত্যেক সাংসদের কাছে আবেদন করছি, আপনারা ভারতের মহিলাদের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপটিকে সমর্থন করতে একজোট হন। দায়বদ্ধতার নিরিখে আমরা এই সুযোগকে কাজে লাগাই’।