Jaishankar on Russian Oil

২০২২-এ রাশিয়া থেকে তেল কেনার ছাড়পত্র দিয়েও শুল্ক চাপিয়েছে আমেরিকা! ট্রাম্পের ‘দুমুখো’ নীতিতে প্রশ্ন জয়শঙ্করের

ফিনল্যান্ডে একটি অনুষ্ঠানে জয়শঙ্কর বলেন, ‘‘২০২২ সালে আমেরিকা সুস্পষ্ট ভাবে জানিয়েছিল যে, বিশ্বের তেল বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনতে পারে ভারত।’’

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ ১১:৫৫
রুশ তেল কেনা নিয়ে আমেরিকার নীতির সমালোচনা ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

রুশ তেল কেনা নিয়ে আমেরিকার নীতির সমালোচনা ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

২০২২ সালে আমেরিকাই বলেছিল রাশিয়া থেকে তেল কিনতে। কিন্তু তেল কেনার জন্য সেই আমেরিকাই আবার ভারতের উপর শুল্ক চাপিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এই ‘দুমুখো’ নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ফিনল্যান্ডে একটি অনুষ্ঠানে জয়শঙ্কর বলেন, ‘‘২০২২ সালে আমেরিকা সুস্পষ্ট ভাবে জানিয়েছিল যে, বিশ্বের তেল বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনতে পারে ভারত।’’ কিন্তু কার্যক্ষেত্রে যখন রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা শুরু করা হয়, ঠিক তার পর পরই ফের সেই অবস্থান থেকে সরে এসে আমেরিকা একের পর এক শুল্ক আরোপ করে।

Advertisement

বিদেশমন্ত্রীর কথায়, ‘‘সেই সময় রাশিয়াতে তেল সহজলভ্য ছিল। কারণ, পশ্চিম এশিয়া থেকে ইউরোপীয় দেশগুলি বিপুল পরিমাণে তেল কিনে নিচ্ছিল। পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি থেকেও ভারত বরাবর তেল কিনে এসেছে। কিন্তু পরিস্থিতি আমাদের দিক পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে।’’ রাশিয়ার তেল বিক্রিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সমালোচনাও করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে হামলার জেরে রাশিয়ার উপর নানা রকম নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিল আমেরিকা। বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়া থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে তেল আমদানি করেছে ভারত। যখন তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, ইউক্রেনে যে ভাবে রাশিয়া হামলা চালাচ্ছে, তার পরেও তাদের প্রতি ভারতের এত ‘সহানুভূতি’ কেন? এর নেপথ্যে কি রুশ তেল? এই প্রশ্নের জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, ‘‘মনে রাখবেন, আমরা দাম এবং সহজলভ্যতার ভিত্তিতে তেল কিনে থাকি।’’ এর পরই তিনি রাশিয়াকে ‘নির্ভরশীল তেল সরবরাহকারী’ বলে উল্লেখ করে আমেরিকার ‘দুমুখো’ নীতিকে কটাক্ষ করেছেন জয়শঙ্কর। বিদেশমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমেরিকা প্রথমে কী করল? আমাদের বলল, আপনারা নির্দ্বিধায় তেল কিনুন রাশিয়া থেকে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল, সেই ছাড়পত্র দেওয়ার পর যখন রুশ তেল কেনা শুরু করলাম, তখন আবার শুল্ক আরোপ করল। সেই শুল্ক আবার পরে তুলেও নিল।’’

ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু হয় গত বছর থেকে। ট্রাম্প প্রশাসন রফতানিকৃত ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। যা ছিল এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি। প্রথমে ভারতীয় পণ্যে সাধারণ ভাবে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু রাশিয়ার কাছ থেকে খনিজ তেল কেনার বিষয়ে নয়াদিল্লির অনড় মনোভাবের কারণে পরে আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে দেন তিনি। ২০২৫ সালের ২৭ অগস্ট থেকে সেই ৫০ শতাংশ শুল্ক ভারতের রফতানিকৃত পণ্যে প্রযোজ্য হয়। এর ফলে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য যথেষ্ট ধাক্কা খায়। ট্রাম্প এক বিশেষ জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করে বিভিন্ন দেশের উপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করেন।

Advertisement
আরও পড়ুন