SIR

‘পক্ষপাতদুষ্ট কর্মকাণ্ড থেকে গণতন্ত্রকে রক্ষা করুন’, প্রধান বিচারপতিকে চিঠি পাঠিয়ে কী অভিযোগ জানাল বিরোধীরা

বিরোধী দলগুলির চিঠিতে বেশ কয়েকটি বিষয় উপস্থাপন করে শীর্ষ আদালতের কাছে তার প্রতিবিধানের আর্জি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হল ‘নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতদুষ্টতা’ এবং ‘এসআইআর প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতা’।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬ ১৭:৪৩
Why 23 opposition parties writes letter to CJI Surya Kant over SIR, what’s their allegations

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় স‌ংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া এবং ভোট সংক্রান্ত অন্যান্য কিছু বিষয় নিয়ে আপত্তি ও উদ্বেগ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের কাছে ২৩টি বিরোধী দল যৌথ ভাবে চিঠি পাঠিয়েছে। তাতে সই করেছেন এক নির্দল সাংসদও। নির্বাচন কমিশনের ‘পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা’ নিয়ে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তোলা হয়েছে তাতে।

Advertisement

এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল আট পাতার সেই চিঠির বয়ান প্রকাশ করে শুক্রবার সমাজমাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করে লিখেছেন, ‘‘আমাদের বিচারব্যবস্থার দায়িত্ব হল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষপাতদুষ্ট কার্যকলাপ থেকে গণতন্ত্রকে রক্ষা করা— বিশেষত এমন এক প্রতিষ্ঠান, যা আমাদের গণতন্ত্রের ভিত্তি হিসাবে থাকা সাংবিধানিক কাঠামোকে ধ্বংস করতে বদ্ধপরিকর। আমাদের গণতন্ত্রে, অন্যায় যাতে প্রতিষ্ঠা না পায় তা নিশ্চিত করার গুরুদায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের উপর ন্যস্ত। তাই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের চরিত্র রক্ষা নিশ্চিত করায় সুপ্রিম কোর্টের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তা না হলে, ১৪০ কোটিরও বেশি ভোটারের প্রতি অন্যায় অব্যাহত থাকবে। স্বচ্ছতার স্বার্থে আমরা এই চিঠিটি প্রকাশ করছি এবং এই আশা করছি যে, মাননীয় সুপ্রিম কোর্ট জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় দৃঢ় পদক্ষেপ করবে। যাতে আমাদের কোটি কোটি মানুষের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সততা, জবাবদিহিতা এবং আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় তা নিশ্চিত করবে।’’

বিরোধী দলগুলির চিঠিতে বেশ কয়েকটি বিষয় উপস্থাপন করে শীর্ষ আদালতের কাছে তার প্রতিবিধানের আর্জি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হল, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং এসআইআর প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখা নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, শাসকদল বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে বিজেপিকে রাজনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্য রাজ্যগুলিতেও সেই চেষ্টা চলছে। গণতন্ত্র ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এ ধরনের পক্ষপাতদুষ্ট হস্তক্ষেপ অবাঞ্ছিত বলে অভিযোগ করে চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘‘ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে নির্বাচনী ফলাফল প্রভাবিত হতে পারে এবং তা দেশের গণতন্ত্র ও অবাধ নির্বাচনী ব্যবস্থার পরিপন্থী।’’ কমিশনের কার্যকলাপ ‘অসাংবিধানিক’ বলে দাবি করে অবিলম্বে বিচার বিভাগীয় হস্তক্ষেপের জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন জানিয়েছে কংগ্রেস-তৃণমূল-ডিএমকে-সিপিএম-সহ বিরোধীরা। তাদের মতে যখন কোনও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান (যেমন নির্বাচন কমিশন) বিতর্কিত কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ে, তখন বিচারবিভাগই একমাত্র ভরসা। তাই তারা এই পুরো বিষয়টি বিচার বিভাগীয় নজরদারির আওতায় আনার আবেদন জানিয়েছে প্রধান বিচারপতির কাছে।

Advertisement
আরও পড়ুন