Women Army Officers

স্বল্পমেয়াদি কমিশনের মহিলা অফিসারদেরও সেনায় স্থায়ী ভাবে নিযুক্ত হওয়ার অধিকার রয়েছে! রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট

অতীতে দীর্ঘ সময় ধরে যে ভাবে মহিলা আধিকারিকদের বার্ষিক গোপনীয় রিপোর্ট (এসিআর) তৈরি করা হয়েছে, তা-ও ত্রুটিপূর্ণ বলে মনে করছে আদালত। তাতে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি বলেই মত সুপ্রিম কোর্টের।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২৬ ১৩:১২
সুপ্রিম কোর্টের বাইরে দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মহিলা আধিকারিকেরা।

সুপ্রিম কোর্টের বাইরে দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মহিলা আধিকারিকেরা। —ফাইল চিত্র।

স্বল্পমেয়াদি কমিশনে নিযুক্ত হওয়া মহিলা আধিকারিকদেরও বাহিনীতে স্থায়ী ভাবে নিযুক্ত হওয়ার অধিকার আছে। মঙ্গলবার এমনটাই রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে দেশের সশস্ত্র বাহিনীতে ‘লিঙ্গবৈষম্য’ দূর করারও বার্তা দিল আদালত। স্বল্পমেয়াদি কমিশনে নিযুক্ত মহিলা আধিকারিকদের স্থায়ী ভাবে নিয়োগ না দেওয়া আসলে ‘প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যেরই’ ফল। রায় ঘোষণার সময়ে এমনটাই জানিয়েছেন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।

Advertisement

সুপ্রিম কোর্ট এ-ও স্পষ্ট করে দিয়েছে, বাহিনীর পুরুষ আধিকারিকেরা কখনওই এটা আশা করতে পারেন না যে স্থায়ী কমিশনের ওই পদগুলি যে শুধুমাত্র তাঁদের জন্যই রাখা থাকবে। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছে, মামলা বিচারাধীন থাকাকালীন স্বল্পমেয়াদি কমিশনের যে মহিলা আধিকারিকেরা ১৪ বছর কাজ করে বাহিনী থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন, তাঁরা ২০ বছর কাজ করেছেন বলেই ধরে নেওয়া হবে। তাঁদের পেনশনও দিতে হবে। তবে ওই অতিরিক্ত সময়ের জন্য তাঁরা কোনও বকেয়া বেতন (এরিয়ার) পাবেন না। আদালত জানিয়েছে, এটি একটি এককালীন পদক্ষেপ।

দেশের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, বাহিনীতে স্বল্পমেয়াদি কমিশনে কর্মরতেরা প্রাপ্ত গ্রেড, শারীরিক মাপকাঠি, শৃঙ্খলা এবং অন্য ছাড়পত্রের ভিত্তিতে স্থায়ী নিয়োগ পেতে পারেন। অতীতে দীর্ঘ সময় ধরে যে ভাবে মহিলা আধিকারিকদের বার্ষিক গোপনীয় রিপোর্ট (এসিআর) তৈরি করা হয়েছে, তা-ও ত্রুটিপূর্ণ বলে মনে করছে আদালত। যথাযথ বিচার-বিবেচনা না-করে, কিছু দায়সারা ভাবেই ওই রিপোর্টগুলি তৈরি করা হয়েছিল বলে মনে করছে আদালত। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, মহিলারা কখনও স্থায়ী নিয়োগ পাবেন না, এটা ধরে নিয়েই ওই রিপোর্টগুলি তৈরি করা হয়েছিল।

স্বল্পমেয়াদি কমিশনের পরে স্থায়ী কমিশনের আবেদন নাকচ হওয়ায় শীর্ষ কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সেনার কয়েক জন মহিলা অফিসার। দেশের প্রধান বিচারপতির এজলাসে এই মামলায় অতীতের বিভিন্ন গুরুতর প্রশ্ন উঠে এসেছিল। এ বার সেই মামলায় রায় জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। স্পষ্ট করে দিল, স্থায়ী ভাবে নিয়োগ পাওয়ার অধিকার রয়েছে মহিলা অফিসারদেরও।

বস্তুত, দেশের সশস্ত্র বাহিনীগুলিতে সাধারণত দু’ধরনের নিয়োগ হয়। স্বল্পমেয়াদি নিয়োগ (শর্ট সার্ভিস কমিশন), যা সাধারণত ১০-১৪ বছরের জন্য হয়। অন্য দিকে থাকে স্থায়ী নিয়োগ (পার্মানেন্ট কমিশন), এটি হল দীর্ঘমেয়াদি কর্মজীবন। অবসরের বয়স পর্যন্ত কাজ করা যায় এই নিয়োগে। স্থায়ী ভাবে নিযুক্তেরা পেনশন এবং অন্য অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধাও পান।

Advertisement
আরও পড়ুন