ডিমের খোসা ছাড়ানোর সেরা পন্থা কোনটি? ছবি: সংগৃহীত।
সিদ্ধ ডিম খাওয়া যত সহজ, খোসা ছাড়ানো ততটা নয়। অনেক সময়ে খোসার সঙ্গে ডিমের সাদা অংশও উঠে আসে। ফলে ডিমের খানিক অংশ যেমন ময়লার বালতিতে চলে যায়, তেমনই চেহারাও নষ্ট হয়। বিশেষ করে ডিমের ডেভিল, স্যালাড বা অতিথি আপ্যায়নের জন্য ডিম ব্যবহার করতে গেলে বিপাকে পড়তে হয়। ডিমের খোসা ছাড়ানোর নানা রকমের পদ্ধতি রয়েছে। কিন্তু কোনটি সবচেয়ে বেশি কার্যকর, তা বুঝবেন কী ভাবে? জনপ্রিয় ৫টি কৌশলের সুবিধা-অসুবিধা জেনে গেলে সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হবে।
ডিমের খোসার ঠিক ভিতরে একটি পাতলা ঝিল্লি থাকে। অনেক সময় সেই ঝিল্লি ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে লেগে যায়। তাই খোসা ছাড়ানোর সময়ে ডিমের অংশবিশেষ উঠে আসে। ডিম কতটা টাটকা, কী ভাবে সেদ্ধ করা হয়েছে, ঠান্ডা করার কোন কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে, এ সবের উপরই নির্ভর করে কতটা সহজে খোসা ছাড়ানো যায়।
১. কলের জলের তলায় রেখে
ডিম সেদ্ধ করে অল্প ঠান্ডা হতে দিন। তার পর কলের জল খুলে, তার তলায় রেখে ছাড়িয়ে নিন। এই পদ্ধতিতে জলের প্রবাহ খোসা ও ডিমের মাঝের স্তরে ঢুকে পড়ে। খোসা তুলনামূলক সহজে আলগা হয় এবং ডিমের সাদা অংশও অক্ষুণ্ণ থাকে। কিন্তু সমস্যা হল, যে টুকরো এঁটে থাকে ডিমের গায়ে, সেগুলির ক্ষেত্রে খুব একটা সুবিধা হয় না।
২. বাক্সে রেখে ঝাঁকিয়ে নিয়ে
একটি টিফিন বাক্সে অল্প জল ভরে তাতে ডিম রাখুন। খানিক ক্ষণ ঝাঁকিয়ে নিয়ে তার পর খোসা ছাড়ান। এর ফলে ডিমের গায়ে একাধিক ফাটল ধরে। তার পর ছাড়াতে গেলে অনেক সময়ে বড় অংশের খোসা এক বারেই খুলে আসে। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও অসুবিধা রয়েছে। যদি কোনও ডিম নরম রেখে সেদ্ধ করা হয়, তা হলে এই ঝাঁকুনির ফলে সে ডিম ভেঙেও যেতে পারে।
৩. বরফজলে ডুবিয়ে
ডিম সেদ্ধ হওয়ার পরই বরফ-জলে ডুবিয়ে রাখতে হবে। মিনিট দশেক রেখে তুলে নিন। এ বার খোসা ছাড়ানোর চেষ্টা করুন। এ ক্ষেত্রে কসরত ছাড়াই ডিমের খোসার বড় অংশ এক বারে খুলে আসতে পারে। গরম ডিম হঠাৎ ঠান্ডা জলে গেলে ডিমের সাদা অংশ সামান্য সঙ্কুচিত হয়। ফলে খোসা এবং ডিমের মধ্যে একটি ফাঁক তৈরি হয়। এর ফলেই খোসা ছাড়ানো সহজ করে। তা ছাড়া ডিম ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার ফলে হাতে ধরতেও অসুবিধা হয় না। তবে এ ক্ষেত্রে বরফের জোগান থাকতে হবে। অনেকের কাছে কখনওসখনও সেটিই কসরতের বলে মনে হতে পারে।
৪. টেবিলে গড়িয়ে নিয়ে
অনেকেই সিদ্ধ ডিমকে টেবিলের উপর হালকা গড়িয়ে নিয়ে আলতো চাপ দেন। এর ফলে ডিমের চারদিকে একসঙ্গে ফাটল ধরে যায়। এতে খোসা ছোট ছোট অংশে আলগা হয়ে যায় এবং তুলে ফেলতে সুবিধা হয়। কিন্তু ডিমের গড়ানোর সময়ে কতখানি চাপ দিচ্ছেন, তার উপর কাজের সূক্ষ্মতা নির্ভর করে। একটু বেশি জোর দিলে ডিম ভেঙে যেতে পারে, খুব কম দিলে খোসায় যথেষ্ট ফাটল না-ও ধরতে পারে।
৫. পুরনো ডিম সেদ্ধ করে
অনেক সময়ে বাজার থেকে সদ্য কিনে আনা ডিমের তুলনায় কয়েক দিনের পুরনো ডিম সেদ্ধ করলে এই ঝক্কি পোহাতে হয় না। ফ্রিজে কয়েক দিন ধরে রেখে দেওয়া ডিম সেদ্ধ করার পর খোসা ছাড়ানোর চেষ্টা করুন। তাতে দেখা যাবে, খোসা অনেক সহজে উঠে আসছে। কিন্তু এরও অসুবিধা রয়েছে। এই কৌশলের জন্য অনেক দিন আগে থেকে পরিকল্পনা করে রাখতে হয়। ঝট করে যে কোনও ডিম সেদ্ধ বসিয়ে দিলে চলে না।
ডিমের খোসা ছাড়ানোর এই ৫টি টোটকার মধ্যে কোনটি আপনার জন্য উপযুক্ত, তা জানতে চাইছেন? প্রত্যেকটি কৌশল প্রয়োগ করে আলাদা আলাদা ভাবে ডিম ছাড়িয়ে দেখুন। যেটি আপনার জন্য সুবিধাজনক, সেটিই আপনার হেঁশেলে সেরার শিরোপা পাবে।