খিচুড়ি রান্নার সময় কোন কৌশল মাথায় রাখলে খাবারের স্বাদ বাড়বে। ছবি: সংগৃহীত।
সরস্বতীপুজোর সঙ্গে খিচুড়ি আর কুলের চাটনির সম্পর্ক বড় গভীর। ঠাকুরের ভোগে খিচুড়ি থাকতেই হবে।নানা বাড়িতে ভোগের নানা নিয়ম। বাড়িতে পুজো না হলেও, এমনিতেই দিনটিতে খিচুড়ি খান অনেকেই। তবে খিচুড়ি মানেই শুধু চাল-ডাল সেদ্ধ করে ফোড়ন দেওয়া নয়। বরং ছোট ছোট কৌশলই খিচুড়ি সু্স্বাদু করার অনুঘটক। খিচুড়ি রান্নার সময় কোন ভুল এড়াবেন এবং কোন কৌশল মাথায় রাখলে, রান্না হবে স্বাদে ভরপুর।
চাল: খিচুড়ির চালই হল আসল। দেরাদুন রাইসের খিচুড়ি একরকম, গোবিন্দভোগ বা আতপ চালের খিচুড়ির স্বাদ অন্য রকম, আবার সেদ্ধ চালের খিচুড়ি সম্পূর্ণ ভিন্ন খেতে লাগে। তবে সরস্বতীপুজোর খিচুড়িতে গোবিন্দভোগ চালেরই ব্যবহার হয়।
বেশি জল: চাল-ডাল সেদ্ধ করার সময় বেশি জল দিলেই সমস্যা।শুরুতে ততটাই জল দিতে হবে যাতে চাল-ডাল সেদ্ধ হয়ে যায় ভাল ভাবে, কিন্তু খুব বেশি জল না থাকে। শুরুতে অনেকটা জল দিলে চাল-ডেল সেদ্ধ হতেও বেশি সময় লাগবে, তা ছাড়া খিচুড়ি বেশি পাতলা হয়ে যেতে পারে।
ভিজিয়ে রাখা: চাল-ডাল ধুয়ে ভিজিয়ে রাখলে, তা একটু নরম হয়ে যায়, ফলে রান্না করাও সহজ হয়। তবে খুব বেশিক্ষণ নয়, মোটামুটি ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখলেই যথেষ্ট। বেশি ক্ষণ ভেজালে আবার দ্রুত তা গলে যাওয়ার ভয় থাকবে।
রান্নার সময়: চাল-ডাল সেদ্ধ হয়ে এলে হলুদ যোগ করুন। কারণ, চাল-ডাল ফোটালে জলের উপর ফেনা ভেসে ওঠে। এই ফেনাগুলি ফেলে দেওয়াই ভাল। আগে হলুদ দিলে, ফেনার সঙ্গে হলুদও বেরিয়ে যাব, ফলে খিচুড়ির রং ভাল আসবে না। এই পর্যায়ে যোগ করুন স্বাদ মতো নুনও।
সব্জি: সরস্বতী পুজো শীতকালে হয় বলে শীতের সব্জি এতে দেওয়া হয়। ফুলকপি, কড়াইশুঁটির পাশাপাশি কেউ চাইলে গাজর, কুমড়োও টুকরো করে দিতে পারেন। সব্জি কেটে ধুয়ে তেলে হালকা সাঁতলে নিতে হবে। না হলে খিচুড়ির স্বাদ তেমন আসবে না। চাল-ডাল সেদ্ধ হয়ে এলে যোগ করুন সব্জিগুলি। ফুলকপি একটু ডুমো করে না কাটলে, খিচুড়িতে মিশে যাবে।
মশলা: কড়াইয়ে তেল দিয়ে তেজপাতা এবং জিরে ফোড়ন দিন। গন্ধ বেরোতে শুরু করলে যোগ করুন আদা-কাঁচালঙ্কা এবং টম্যাটো বাটা। মশলা কষিয়ে নিন। তেল ছাড়তে শুরু করলে মশলাটি সেদ্ধ করা চাল-ডালের সঙ্গে মিশিয়ে ভাল করে খুন্তি দিয়ে নাড়িয়ে নিন।
ফোড়ন: গোবিন্দভোগ চালের খিচুড়ির স্বাদ এবং গন্ধ বাড়িয়ে দেবে ঘিয়ের ফোড়ন। ২ টেবিল চামচ ঘিয়ে ৪-৫টি শুকনো লঙ্কা এবং কাঁচালঙ্কা ফোড়ন দিন। এতে কাঁচালঙ্কার গন্ধও খিচুড়িতে জুড়বে। খিচুড়ি রান্না হওয়ার ৫-৭ মিনিট আগে কড়াইশুঁটি যোগ করুন। চাইলে রান্নায় সামান্য চিনিও যোগ করতে পারেন। একদম শেষধাপে ফোড়ন দিন।
প্রতিটি ধাপ সঠিক ভাবে করতে পারলে, নুন-চিনি ঠিক হলে খিচুড়ির স্বাদ হবে মুখে লেগে থাকার মতো। খেয়াল রাখা দরকার, খিচুড়ি গরম অবস্থায় যেন একটু পাতলাই থাকে। কারণ, যত সময় যাবে খিচুড়ি জল শুকিয়ে ঘন হতে শুরু করবে। শুরুতেই বেশি ঘন থাকলে, একটা সময় সেটি বসে যাবে। খেতে তত ভাল লাগবে না।