Best Look of Last Week

বসন্ত জাগ্রত সাজে! এ সপ্তাহে সাজে প্রথম-দ্বিতীয়-তৃতীয় হলেন কোন নায়ক এবং নায়িকা?

প্রতি দিনই বিভিন্ন ক্ষেত্রের তারকারা কী সাজছেন, কেমন পোশাক পরছেন, কেমন স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করছেন, সে সবে নজরে থাকে আনন্দবাজার ডট কমের। তবে এ বার তার মধ্যে থেকে প্রতি সপ্তাহের বিশেষ কিছু সাজ তুলে আনা হচ্ছে পাঠকদের দেখার জন্য।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০২ মার্চ ২০২৬ ১৩:৩৩

গ্রাফিক— আনন্দবাজার ডট কম।

বসন্ত এসে গেছে। এ সময়টা আলমারির ভোলবদলের। তার উপর থেকে নীচের তাক নতুন করে গুছনোর পালা। শীতের জ্যাকেট, সোয়েটার, শাল, মাফলার চলে যাবে আড়ালে। হাতের নাগালে গুছিয়ে রাখতে হবে হালকা সুতির কাপড়চোপড়। তাঁত, হ্যান্ডলুম, সুতির শাড়ি আবার ছোঁবে আঙুল। ছেলেরা এই সব আবার প্রিয় পাঞ্জাবির সংগ্রহ টেনে বার করবেন। খুলবে গয়নাগাটির বাক্সও। আর গরমজামার আড়ালে তাদের ঢাকা পড়তে হবে না। সব মিলিয়ে সাজঘরেও নামবে বসন্ত।

Advertisement

এই বদল অবশ্য শুধু সাজঘরে আটকে থাকে না, প্রতি ঋতুবদলের সঙ্গে ফ্যাশন দুনিয়ার সাজোগোজের সম্ভারও বদলে যায়। মার্জার সরণিতে যাঁরা নিয়মিত নজর রাখেন তাঁরা দেখবেন, এই সময়টায় পোশাকশিল্পীরা ব্যস্তসমস্ত হয়ে তাঁদের ‘স্প্রিং কালেকশন’ বা ‘বসন্ত সম্ভার’ প্রকাশ করেন। ঋতু যেখানে বসন্ত, সেখানে রঙের বাহার থাকবেই। তার সঙ্গে পোশাকে এক ধরনের সতেজ ভাবও থাকে। এ সপ্তাহে তারকাদের সাজগোজেও সেই তরতাজা ভাব চোখে পড়ল।

প্রতি দিনই বিভিন্ন ক্ষেত্রের তারকারা কী সাজছেন, কেমন পোশাক পরছেন, কেমন স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করছেন, সে সবে নজরে থাকে আনন্দবাজার ডট কমের। তবে এ বার তার মধ্যে থেকে প্রতি সপ্তাহের বিশেষ কিছু সাজ তুলে আনা হচ্ছে পাঠকদের দেখার জন্য। গত সপ্তাহের প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় হলেন কারা?

১। বিজয় দেবরকোন্ডা

এ সপ্তাহে সেরার সেরা নিঃসন্দেহে বিজয় দেবরকোন্ডা। গয়না পরা দেবতাকে দেখতে অভ্যস্ত চোখ হঠাৎ দেখল একই রকমের গয়না, পোশাক পরে, আলতা রাঙা হাত, আলতা পরা পায়ে চোখের সামনে অবতীর্ণ হয়েছেন এক রক্তমাংসের পুরুষ। বসন্তের এক বিকেলে বিজয়ের সঙ্গে বিয়ে হল নায়িকা রশ্মিকা মন্দনার। এই ধরনের বিয়ে নিয়ে এমনিতেই সিনেমাপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে থাকে। তবে বিয়ের সাজে বিজয়কে দেখার পর তা নিয়ে আলোচনা শিখর ছুঁল। কেন আলোচনা হল? বিজয় কিন্তু তাঁর ঐতিহ্যের বাইরে গিয়ে কিছু করেননি। পরেছিলেন দুধসাদা ধুতি আর লাল রঙের নকশাদার উত্তরীয়। বাঙালি বিয়েতেও ওই দুই বস্ত্রখণ্ডই সম্পূর্ণ হয় বরের সাজ। আর শুধু বাঙালিই বা কেন, ভারতের অধিকাংশ প্রদেশেই আদি যুগ থকে ধুতি-উত্তরীয়েই সেজেছেন পুরুষেরা। কারণ, সেলাই করা পোশাক শুভ কাজে পরার রীতি ছিল না। বিজয় সেই ঐতিহ্যের আদিতে ফিরে গিয়েছেন। আর তাঁর বাজুবন্ধ, একদন্ত বালা, পায়ের খাড়ু, গলায় চওড়া মালার মতো মোটা সোনার হার— সে সবও ঐতিহ্যের বাইরে নয়। এ দেশের রাজা-রাজরারা বরাবরই নানা রকমের গয়না পরেছেন। দেবতার বিগ্রহেও পরানো হয়েছে নানা ধরনের গয়না। বিজয় সেই সংস্কৃতিকেই তুলে ধরেছেন বিয়ের সাজে। ইদানীং কালে বিয়ের দিন বরকে বন্ধগলা যোধপুরী স্যুট, জমকালো শেরওয়ানি, ধুতি-কুর্তা —ইত্যাদি পরতে দেখা যায়। বিজয় দেখালেন, সে সব ছাড়াও সাজে নজর কাড়া যায় আঙুলে আলতা আর পেশল শরীরে মার্জিত গয়না পরে ।

২। দিয়া মির্জ়া

দিয়া মির্জার এই সাজ দেখলে লহমায় মনে পড়ে যাচ্ছে— এ ঋতু বসন্তের। বসন্ত মানে প্রেম। আর এ দে প্রেম মানে ‘সিলসিলা’। টিউলিপের নরম হ্যান্ডলুমের শাড়ি পরে দিয়ার ছবি দেখে মনে পড়ে যাচ্ছে অমিতাভ আর রেখার সেই গান— ‘ইয়ে কাঁহা আ গয়ে হম...’। অবশ্য তার জন্য টিউলিপের বাগিচা নয়, দিয়ার লালচে মেরুন পাড় হালকা সুতির শাড়ি, আর তার ছিমছাম মিষ্টি সাজ দায়ী। পাড়ের সঙ্গে মিলিয়ে মেরুন ইক্কতের ব্লাউজ় পরেছেন দিয়া। সঙ্গে সাদার উপর হালকা নীলের স্ট্রাইপ দেওয়া শাড়ি। গয়নার বাক্স থেকে তিনি বেছে নিয়েছেন অক্সিডাইজ়়ড হার। কপালে পরেছেন মেরুন টিপ। চুলে আলগা খোঁপা। আর কিছুর দরকার ছিল না। দিয়াও আর বেশি সাজেননি। হালকা সাজে তাজা টিউলিপের থেকেও স্নিগ্ধ দেখাচ্ছে নায়িকাকে।

৩। অঙ্কিতা চক্রবর্তী

ক্লাসিক বললে ক্লাসিক, আবার এই সাজকে ‘ভিন্টেজ’ও বলা যেতে পারে। সিফন শাড়ি-স্লিভলেস ব্লাউজ়, মুক্তোর মালা আর ব্লো ড্রাই করা চুল। তাতে নিবু আলোতেও উজ্জ্বল বাংলার অভিনেত্রী অঙ্কিতা চক্রবর্তী। সাজতে জানলে খুব সাধারণ শাড়ি ব্লাউজ়ও যে অসাধারণ হয়ে যেতে পারে, অঙ্কিতার সাজ তার প্রমাণ। চিকনকারির কাজ করা একটি সিফন জর্জেট পরেছেন তিনি। শাড়িটি আরও সুন্দর দেখাচ্ছে তার ফিকে বাদামি রঙের জন্য। তবে এ শাড়ির উত্তরণ ঘটেছে তার উপরে একই রঙের চিকনকারির ফুলের নকশায়। ফ্যাশন দুনিয়া মনে করে, যে কোনও কাপড়ে ‘টেক্সচার’ বাড়লে আভিজাত্যও বাড়ে। টেক্সচার হল সেই জিনিস, যা শাড়ির মসৃণ ভাবকে ধাক্কা দেয়। যত অমসৃণ ভাব, সুতোর ওঠাপড়া, ফোঁড় দেওয়া বোঝা যাবে, ততই তার মান বাড়বে। এ শাড়িতে সেই আকর্ষণ তৈরি হয়েছে। ব্লাউজ়টি গাঢ় রং আর সহজ, পরিচ্ছন্ন কাটের জন্য নম্বর পেয়েছে। তবে এই সাজ সম্পূর্ণ হত না হাতে আর কানে মুক্তোর গয়না ছাড়া। সেখানেই ষাটের দশকের জনপ্রিয় লুক তৈরি করতে পেরেছেন অঙ্কিতা।

Advertisement
আরও পড়ুন