ত্বকের যত্ন নিতে যাপনে বদল। ছবি: সংগৃহীত।
পারদ যত নামছে, উত্তুরে হাওয়ার দাপট যত বাড়ছে, ততই ক্লান্তির ছাপ পড়ছে ত্বকে। শুষ্ক ও রুক্ষ আবহাওয়ার প্রভাব পড়ছে চুলে ও মুখে। কেবল প্রসাধনীর ভরসায় থাকলে সুফল না-ও মিলতে পারে। ঘরোয়া প্রথার উপর নির্ভরশীল হতে হবে ত্বকে ও চুলে ঔজ্জ্বল্য ফেরানোর জন্য। নিস্তেজ চেহারা ও চুলের যত্নে তাই কয়েকটি নিয়ম পালন করতে বলছেন নেটপ্রভাবী পুষ্টিবিদ কাঞ্চন নাইয়ার।
শীতে ত্বকে ও চুলে জেল্লা আনার ৮ উপায়—
১. স্বাস্থ্যকর ফ্যাট খেতে হবে: অ্যাভোকাডো, বাদাম, বীজ, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার যেমন, তিসির বীজ খেতে হবে, যাতে ত্বক উজ্জ্বল থাকে এবং জলের অভাব না ঘটে।
২. জলের ঘাটতি মেটানো: শীতের সময়ে বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকে। কিন্তু আপনার ত্বকের জন্য জলের আর্দ্রতা প্রয়োজন, তাই অন্তত ২ লিটার জল পান করতেই হবে রোজ। গরম পানীয়ের প্রয়োজন পড়লে ভেষজ চা-ও পান করতে পারেন।
নিয়মিত চুলেও তেল মালিশ করতে হবে। ছবি: সংগৃহীত।
৩. ময়েশ্চারাইজ় করা: ত্বক এবং চুলের শুষ্কতা দূর করার জন্য নিয়মিত ময়েশ্চারাইজ়ার ব্যবহার করতে হবে। আর্গন অয়েল, আমন্ড অয়েল বা নারকেল তেল চুলে মালিশ করা দরকার সপ্তাহে অন্তত এক বার। সারা গা-হাত-পায়ে ক্রিম মাখতে হবে নিয়মিত।
৪. ভিটামিন সি খাওয়া: খাদ্যতালিকায় ভিটামিন সি-যুক্ত খাবার যোগ করতে হবে। পাতিলেবু, কমলালেবু, আমলকি, পেয়ারা খেতে হবে, যাতে ত্বক কোলাজেন উৎপাদন করতে পারে।
৫. গরম জলে স্নান না করা: গরম নয়, ঈষদুষ্ণ জলে স্নান করতে হবে শীতের সময়ে। বেশি গরম জলে গা ধুলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। ত্বক প্রাকৃতিক ভাবে তেল উৎপাদন করতে পারে না।
৬. সানস্ক্রিন বাদ না দেওয়া: শীতের মরসুমেও সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। তাই সানস্ক্রিনের সাহায্যে ত্বককে সুরক্ষা দিতে হবে।
৭. পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমোনো: রাতে নিয়মিত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমোলে ত্বকের কোষ নিরাময়ের সুযোগ পাওয়া যায়। উপরন্তু সে সময়ে ত্বক পুনরুজ্জীবিত হতে পারে। তাই ত্বকের জেল্লার জন্য সুনিদ্রা অত্যাবশ্যক।
৮. তেল মালিশ করানো: সপ্তাহে অন্তত এক বার তেল মালিশ করানো উচিত। মাথার ত্বক থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত আমন্ড অয়েল, নারকেল তেল দিয়ে মাসাজ করালে ত্বকের শুষ্কতা দূর হবে, চুল ঝরে পড়া কমবে।