ঝকঝকে দাঁত পেতে কী ব্যবহার করবেন? ছবি: সংগৃহীত।
কোনও কাজে আটকে গেলেই আমরা এখন ইউটিউব, গুগ্ল কিংবা সমাজমাধ্যমের বিভিন্ন পাতায় প্রশ্ন করি। রান্নায় কী ফোড়ন দেবেন সেটাও যেমন জানতে চাওয়া হয়, তেমনই শারীরিক কোনও সমস্যার সমাধানও জানতে চাওয়া হয়। প্রশ্ন করামাত্রই হাজার সমাধান বেরিয়ে আসে। যেমন ধরুন হলদে দাঁত সাদা করবেন কী করে, তা জানতে চাওয়া হলে লেবু, বেকিং সোডা আরও কত উপকরণের নাম করা হয়। তবে সব টোটকায় কি আদৌ লাভ হয়? কোনটা ভাল, কোনটা উল্টে দাঁতের ক্ষতি করবে, জেনে নিন।
চিকিৎসক শ্রুতি মালিকের মতে হাইড্রোজেন পারক্সাইড দাঁত সাদা করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভাল উপাদান। এটি দাঁতের রং হালকা বা উজ্জ্বল করে। এটি মূলত ব্লিচিংয়ের কাজ করে। দোকানে বিক্রি হওয়া দাঁত সাদা করার বেশির ভাগ মলম, টুথপেস্টের মধ্যেই এটি থাকে। তবে আসল বিষয়টি হল এর মাত্রা বা ঘনত্ব। সঠিক মাত্রা বজায় না রাখলে মাড়িতে ক্ষত হতে পারে। দাঁতের যন্ত্রণাও শুরু হতে পারে। তাই চিকিৎসকের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়েই উপকরণটি ব্যবহার করা উচিত।
বেকিং সোডা: চিকিৎসকের মতে, দাঁতের উপরের স্তরের দাগ দূর করতে সক্ষম বেকিং সোডা। সেই কারণেই অনেক টুথপেস্টেই এটি উপাদান হিসাবে থাকে। তবে খুব জোরে বা ঘনঘন বেকিং সোডা দিয়ে ঘষলে দাঁতের এনামেল স্থায়ী ভাবে ক্ষয়ে যেতে পারে। মাঝেমধ্যে ব্যবহার করলে এটি খুব একটা ক্ষতিকর নয়, তবে এর দ্বারা খুব ভাল ফলাফলের আশা করা ঠিক হবে না।
অয়েল পুলিং: অনেকেই নেটমাধ্যমে দেখে তেল দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করেন। শ্রুটি বলেন, “ব্রাশ করার পাশাপাশি সকালে নারকেল বা তিলের তেল দিয়ে মুখ ধোয়া বা কুলকুচি করলে হয়তো দাঁতের প্লাক কিছুটা কমতে পারে, তবে দাঁত সাদা করার ক্ষেত্রে এর কোনও প্রভাবই চোখে পড়বে না। এই অভ্যাসে কোনও ক্ষতি নেই। তবে আসল ঝুঁকিটি লুকিয়ে থাকে অন্য জায়গায়—অনেক সময়ে মানুষ ব্রাশ করার বদলে কেবল তেল দিয়ে মুখ ধোয়ার পদ্ধতিটি বেছে নেন, ফলে দাঁত পরিষ্কারের যে মূল কাজটি জরুরি, তা আর ঠিকমতো হয় না।”
বেগনি টুথপেস্ট: বেগনি রঙের টুথপেস্টের বিষয়টি মূলত হেয়ারড্রেসার বা কেশসজ্জাকারীদের কাছ থেকে নেওয়া একটি রঙের কৌশল। সোনালি চুলের হলদেটে ভাব দূর করতে যে বেগনি আভা ব্যবহার করা হয়, ঠিক সেই একই আভা দাঁতের হলদেটে ভাবও কমিয়ে দেয়। ফলে দাঁত মাজার পর এক-দু’ঘণ্টার জন্য হাসিটি অনেক বেশি উজ্জ্বল দেখায়। তাই ইদানীং অনেক সংস্থাই বাজারে বেগনি রঙের টুথপেস্ট এনেছে। এটি কেবলই একটি ক্ষণস্থায়ী বিভ্রম। এতে দাঁতের উপরের কোনও স্তর উঠে যায় না বা ব্লিচ হয় হয় না।
অ্যাকটিভেটেড চারকোল: দাঁত পরিষ্কার করার জন্য এই উপাদানটি এখন বেশ জনপ্রিয়। এটি এক ধরনের কালো গুঁড়ো, যার দাঁতের দাগ ও বিষাক্ত উপাদান শুষে নেওয়ার ক্ষমতা আছে বলে দাবি করা হয়। এর দানাদার গঠন দাঁতের উপরের অংশের দাগ ঘষে তুলে ফেলতে পারে, যার ফলে ব্যবহারকারীরা বেশ ভাল ফল দেখতে পান। কিন্তু এটি যে দাঁতের এনামেলের প্রকৃত রং পরিবর্তন করতে সক্ষম, এমন কোনও প্রমাণ নেই।