Blue Light Sunscreen

রাতেও সানস্ক্রিন মাখা দরকার! কেন? সূর্যের আলোর মতো ক্ষতিকর কী থাকে অন্ধকারে

রাতে রোদ নেই, তবে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে অন্য ভাবেও। সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মির বদলে কোন সমস্যা দেখা দেয় সে সময়? তার থেকে ত্বককে বাঁচাবেন কী ভাবে?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫৭
রাতেও কি ত্বকের সুরক্ষায় সানস্ক্রিন জরুরি?

রাতেও কি ত্বকের সুরক্ষায় সানস্ক্রিন জরুরি? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

শুধু রোদে বেরোলেই সানস্ক্রিনের দরকার, এমনটাই ধারণা অনেকের। তবে শুধু দিনে নয়, রাতেও দরকার হতে পারে সানস্ক্রিনের, বলছেন চিকিৎসকেরাই। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন আসে, সূর্য যখন অস্ত যায়, তখন আর সানস্ক্রিনের কী কাজ?

Advertisement

ডিজিটাল যুগে বিপদ অন্যখানে বলছেন চর্মরোগ চিকিৎসক আশারানি ভোল এবং মানস সেন। ছোট থেকে বড়— সকলেরই সর্ব ক্ষণের সঙ্গী মোবাইল। তা ছাড়া, পড়াশোনা, অফিসের কাজের জন্য আছে ল্যাপটপ-কম্পিউটার। তা থেকে যে নীলচে আলো বার হয়, তা-ও কিন্তু সূর্যরশ্মির চেয়ে কম ক্ষতিকর নয়।

এই নীলাভ আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য ৩৮০-৫০০ ন্যানোমিটার। আশারানি বলছেন, ‘‘কম্পিউটার বা ল্যাপটপের স্ক্রিনের সামনে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করলে ত্বকের সুরক্ষাবর্ম ভেঙে সংক্ষিপ্ত তরঙ্গদৈর্ঘ্যের নীল আলো প্রবেশ করে ত্বকের গভীরে। তার ফলেই ব্যাহত হয় মেলানিন উৎপাদন, বলিরেখা দেখা দেয় মুখে, শুষ্ক হয়ে যায় ত্বক।’’ মানস মনে করাচ্ছেন, শুধু স্ক্রিন নয়, এই নীল আলো থাকে সূর্যরশ্মিতেও। তাই শুধু রাত নয়, দিনেও নীল আলো থেকে সুরক্ষার দরকার হয়।

নীল আলো এবং ত্বকের সম্পর্ক

কম বয়সে ত্বক বুড়িয়ে যাওয়া, মুখে কালচে ছোপ, শুষ্ক ভাব, বলিরেখার জন্য খলনায়ক ধরা হয় রোদ আর দূষণকে। তবে, নীল আলোও ত্বকের কম বড় শত্রু নয়। রাত জেগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সিনেমা, রিল দেখার ফাঁকে অজান্তেই ক্ষতি হয় ত্বকের। রোদ থেকে বাঁচতে লোকজন সানস্ক্রিন ব্যবহার করলেও, নীল আলোর সঙ্গে বাঁচতে আদতে যে কিছু করণীয়, সে ব্যাপারেও সচেতনতা থাকে না।

তবে সবটাই যে ক্ষতিকর, তা নয়। এই নীল আলোকে কৌশলে ত্বকের চিকিৎসাতেও ব্যবহার করা যায়, জানাচ্ছেন আশারানি। ব্রণের চিকিৎসা, ত্বকের প্রদাহ কমাতেও বিশেষ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোর ভূমিকা রয়েছে। তবে এই আলোর ক্ষতিকর দিকটি সম্পর্কে সচেতন না হলেই বিপদ!

নীল আলো থেকে সুরক্ষা মিলবে কী ভাবে?

দিন হোক বা রাত— ত্বক বাঁচাতে হলে সুরক্ষাবর্মের দরকার। সেটাই হতে পারে সানস্ক্রিন। মানস বলছেন, ‘‘যে কোনও সানস্ক্রিন নয়, নীল আলো থেকে ত্বক বাঁচাতে দরকার ‘ফিজ়িক্যাল সানস্ক্রিন’। জ়িঙ্ক অক্সাইড, টাইটানিয়াম ডাই অক্সাইডের মতো উপাদানগুলি ত্বকের উপর এমন এক বর্ম তৈরি করে, যা ভেদ করে সূর্যের অতিবেগনি রশ্মি বা পর্দার নীল আলো ত্বকের ভিতরে যেতে পারে না। ত্বকের উপরিভাগ থেকেই তা প্রতিফলিত হয়ে বেরিয়ে যায়।’’

গত কয়েক দশকে কর্মসংস্কৃতিতে অনেকটাই বদল এসেছে। অনেকেরই কাজ চলে সারা রাত ধরে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল, কম্পিউটারের সামনে বসেই সেই কাজ করতে হয়। আশারানির কথায়, ‘‘নীল আলো থেকে সুরক্ষার একটি মাধ্যম অবশ্যই হতে পারে বিশেষ ধরনের সানস্ক্রিন। তা ছাড়া আরও কিছু উপায় আছে। কম্পিউটার এমন ভাবে রাখা যেতে পারে, যাতে কাজের সময় নীল আলো সরাসরি মুখে-চোখে না পড়ে। নীল আলোর বিকিরণ থেকে বাঁচতে ব্লু-লাইট প্রোটেক্টর বা স্ক্রিন গার্ড ব্যবহার করা যায়। চশমাতেও এমন সুরক্ষাবর্ম মেলে। তা ছাড়া চেষ্টা করতে হবে, কম্পিউটার বা ল্যাপটপ থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করতে। অনেকে স্ক্রিনের সামনে মুখ নিয়ে গিয়ে কাজ করেন। তা ত্বক এবং চোখ— দুইয়ের জন্যই ক্ষতিকর।’’

‘ব্লু-লাইট প্রোটেকটর’ সানস্ক্রিন

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সানস্ক্রিনের ফর্মুলা এবং ধরনে বদল এসেছে। পাওয়া যায় সানস্ক্রিন স্প্রে থেকে সানস্ক্রিন স্টিক। ইদানীং দেখা যাচ্ছে, নীল আলো থেকে সুরক্ষা দিতে পারে এমন সানস্ক্রিনও। বিজ্ঞাপনে দাবি করা হচ্ছে তেমনটাই। এমন কোনও কিছু কিনেই কি তা হলে মেখে নেওয়া চলবে? আশারানি এবং মানস মনে করাচ্ছেন, বাজারচলতি সানস্ক্রিন কতটা কার্যকর, সে সম্পর্কে চিকিৎসকেরা সব সময় নিশ্চিত থাকেন না। তা ছাড়া, ত্বকের ধরন, সমস্যা, কে কত ক্ষণ কম্পিউটার স্ক্রিনের সামনে থাকছেন, তার উপর নির্ভর করে সানস্ক্রিন বাছাই জরুরি। এ ব্যাপারে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভাল।

মাখবেন কী ভাবে, তা কি ধুয়ে ফেলতে হবে সকালে?

অনেকেরই বক্তব্য, সানস্ক্রিন রাতে মেখে রাখলে ত্বকের সূক্ষ্ম ছিদ্রমুখগুলি বন্ধ হয়ে যেতে পারে, তা থেকেই ত্বকে সমস্যা হতে পারে। তবে এমন কথায় সিলমোহর দেননি চিকিৎসকেরা। মানস জানাচ্ছেন, নীল আলো প্রতিরোধ করতে হলে রাতে মুখে সানস্ক্রিন মেখে রেখে দেওয়াই যায়। সকালে ঘুমোতে যাওয়ার আগে তা ধুয়ে ফেলতে হবে এমন নয়। চাইলে তা কেউ করতেও পারেন। তবে ত্বকের ধরন অনুযায়ী, সানস্ক্রিন বাছাই জরুরি।

Advertisement
আরও পড়ুন